
শিলিগুড়ি: ঘেঁটে যেন এক্কেবারে হ য ব র ল। SIR করতে গিয়ে এক তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের নাম ভোটার লিস্ট থেকে বাদ দিয়েছে কমিশন। কিন্তু তাঁকেই আবার ভোটে থার্ড পোলিং অফিসারের ডিউটি দেওয়া হয়েছে। শিলিগুড়িতে মুন্সি প্রেমচাঁদ কলেজে বাংলা পড়ান জগদীশ রায়। তিনি তৃণমূলের চম্পাসারি গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য। তাঁর দাবি, একদিকে আমার নাম কেটে দিল কমিশন। তাহলে আমি যদি বৈধ নাগরিক না থাকলাম সেক্ষেত্রে আমায় ভোটের ডিউটি কেন? তাছারা আমি তৃণমূলের নির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্য। কমিশনের দেওয়া সার্টিফিকেট আছে। সেই কমিশনই আমায় ভোটের ডিউটি দিচ্ছে। যে শাসকে এত এলার্জি তাঁকে দিয়ে ভোট করাবে কমিশন?
জগদীশ বলেন, “২০০২ সালে লিস্টে আমার বাবা-মার নাম রয়েছে। বাবা-মা ভোট দিয়েছে। এখনকার তালিকাতেও বাবা-মায়ের নাম রয়েছে, আমার নেই। আমাকে হিয়ারিংয়ে ডাকা হয়েছিল। সব নথি দিয়েছি। কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদীতভাবে বিজেপি আমার নামটা বাদ দিয়েছে।”
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা এবং নাম বাদ যাওয়া নিয়ে রাজ্য রাজনীতি বর্তমানে চরম উত্তপ্ত। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রথম ধাপে প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে (যার মধ্যে মৃত, স্থানান্তরিত বা ডবল এন্ট্রি রয়েছে)। তবে সবথেকে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে প্রায় ৬০ লক্ষ নাম নিয়ে, যা ‘বিচারাধীন’ বা ‘Under Adjudication’ তালিকায় ছিল। এর মধ্যে একটি বড় অংশের নাম সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় বাদ পড়ায় তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রক্রিয়াকে সরাসরি বিজেপির “ষড়যন্ত্র” বলে অভিহিত করেছে। দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বেরনোর আগে পর্যন্ত প্রায় ৭৬ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে বলে খবর।