
শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ি পৌরনিগমের কর্মীদের সঙ্গে তৃণমূলের দুই প্রার্থীর বৈঠক ঘিরে বিতর্ক। অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন ও রাজ্যের নির্দেশিকা অগ্রাহ্য করেই পুরকর্মীদের নিয়ে বৈঠক করলেন তৃণমূল প্রার্থী গৌতম দেব ও রঞ্জন শীলশর্মা। ভোট প্রচারে কোনওভাবেই পুরকর্মীদের যুক্ত না হতে নির্দেশিকাও দিয়েছিল পৌরনিগম। কিন্তু শনিবার দুই তৃণমূল প্রার্থীর ডাকে সাড়া দিয়ে হাজির ছিলেন বহু স্থায়ী, অস্থায়ী পুরকর্মীই। এই নিয়ে কমিশনে নালিশ জানিয়েছে বিজেপি।
ভোটপর্ব শুরু হতেই পৌরনিগমের তরফে নির্দেশিকা দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, কমিশনের নির্দেশেই পক্ষপাতমুক্ত নির্বাচন করতে হবে। ফলে সরকারি কর্মীরা ছাড়াও স্থানীয় পৌরসভার কর্মীরাও কোনও রাজনৈতিক দলের প্রচারে, বৈঠকে অংশ নেবেন না। কিন্তু এদিন শিলিগুড়িতে বাঘাযতীন ক্লাবে ভোটের প্রচারে সেই পুরকর্মীদের অনেকেই হাজির রইলেন তৃণমূলের বৈঠকে। ছিলেন প্রার্থী শিলিগুড়ির প্রার্থী তথা শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব এবং ডাবগ্রাম ফুলবাড়ির তৃণমূল প্রার্থী রঞ্জন শীলশর্মা।
বৈঠক শেষে পুরকর্মীদের বক্তব্য, তাঁদের আসতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বৈঠকে কে কে এসেছিলেন, তা নথিভুক্ত করে লাঞ্চের কুপন দেওয়া হয়। তবে এদিনের বৈঠকে উপস্থিত কর্মীদের অনেকেই জানান, তাঁরা কোনও রাজনৈতিক দল করেন না। এদিনের বৈঠকে পৌরনিগমের অস্থায়ী সাফাই কর্মী ছাড়াও চুক্তিভিত্তিক বহু কর্মী হাজির ছিলেন।
কী বলছেন তৃণমূলের দুই প্রার্থী?
যদিও বৈঠক শেষে তৃণমূল প্রার্থী রঞ্জন শীলশর্মা দাবি করেন, যাঁরা বৈঠকে এসেছিলেন, তাঁরা কেউ পৌরনিগমের কর্মচারী নন। অস্থায়ী কর্মী। একইসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, “কে কী নির্দেশ দিয়েছে, জানা নাই। ভোটে দাঁড়িয়েছি। আমার কাজ ভোটের প্রচার করা। কোথায় কী হচ্ছে, যারা দেখার তারা দেখবে।”
অন্যদিকে শিলিগুড়ির মেয়র তথা প্রার্থী গৌতম দেব বলেন, “আমি কমিশনের নিয়ম মেনেই এদের কাছে ভোট চাইনি। একজন অভিভাবক কখনও সন্তানদের কাছে ভোট চান না। বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানালাম। ভালোভাবে পরিষেবা দেওয়ার কথা বলেছি। আমি আচরণ বিধি মেনেই প্রচার করছি।”
এদিকে, ঘটনা সামনে আসতেই এ নিয়ে কমিশনে নালিশ জানিয়েছে বিজেপি। আবার তৃণমূলকে খোঁচা দিয়ে শিলিগুড়ির বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর ঘোষ বলেন, “ওই বৈঠকে পৌরনিগমের স্থায়ী, অস্থায়ী কোনও কর্মী ভালোবেসে আসেননি। ভয়ে এসেছেন। পৌরনিগম অস্থায়ী কর্মীদের সঙ্গে যে ব্যবহার করেছে, তার জবাব ভোটবাক্সে পাবে তৃণমূল।”