
আরামবাগ: আগের তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে বারবার উঠেছিল গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগ। কেন্দ্রীয় বরাদ্দ তছরূপের অভিযোগে দীর্ঘদিন বন্ধই হয়ে গিয়েছিল একশো দিনের কাজ। ভুয়ো জব কার্ড তৈরি করে কাজের খতিয়ানে লাগাতার কারচুপির অভিযোগ উঠেছিল। রাজ্যে পালাবদলের পরেই ফের নতুন আশার আলো। ১ জুন থেকেই যে রাজ্যে ফের একশো দিনের প্রকল্প চালু হচ্ছে তা জানিয়ে দিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নাগরিক মহলে শুরু হয়ে গিয়েছিল চর্চা।
নতুন সরকারের এক মাস পূর্ণ হতে না হতেই জব কার্ডের কাজ শুরু হয়ে গেল হুগলির আরামবাগে। দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল সরকারের আমল থেকেই এই কাজ বন্ধ থাকায় সমাজের প্রান্তিক শ্রেণির মানুষের মাথায় কার্যত হাত পড়ে যায়। এবার নতুন সরকার ফের কাজ শুরু করাতে উচ্ছ্বসিত জব কার্ড হোল্ডাররা। বুধবার থেকেই একেবারে হৈ হৈ করে কাজ শুরু হয়ে গেল গোঘাটের সাওড়া পঞ্চায়েত এলাকার কয়েকটি গ্রামে। কাজ শুরু হতেই হাসি ফুটেছে সাধারণ মানুষের মুখে।
দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ নিয়ে গোঘাটের বিধায়ক প্রশান্ত দিগার তৃণমূলের বিরুদ্ধেই সুর চড়িয়ে বলছেন, “২০১৯ সালের পর থেকে আজ পর্যন্ত আগের তৃণমূল সরকার জব কার্ড থেকে বাংলার মানুষকে বঞ্চিত করেছিল। জব কার্ড নিয়ে তো ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। বাস্তবের সঙ্গে ওদের কাজের কোনও মেলবন্ধন পাওয়া যায়নি।”
এখন নতুন করে কাজ শুরু হওয়ায় স্বভাবতই খুশি এলাকার লোকজন। গ্রামের বাসিন্দা অজিত রায় বলছেন, “খুব খুশি আমরা। কাজ শুরু হওয়াতে খুবই ভালো লাগছে। আগের তৃণমূল সরকার যাঁরা বাড়িতে বসে আছে তাঁদের নামে টাকা তুলে দিয়ে আত্মসাৎ করে নিয়েছিল। আমরা তো ১২ মাস খেটে খাই। আমাদের তো রুটিই বন্ধ করে দিয়েছিল ওরা।” এলাকার বাসিন্দা তথা বিজেপি কর্মী নবকুমার মণ্ডল বলছেন, “শুভেন্দু অধিকারী যে এই কাজ আবার ফিরিয়ে এনেছেন তাতে আমরা খুবই খুশি। কাজ করে ছেলে মেয়েদের মুখে এবার দু’টো ভাত তুলে দিতে পারব।”