
হরিপাল: একদিকে যখন গ্যাসের হাহাকার, লাইনে দাঁড়িয়ে বহু মানুষ, ঠিক সেই সময় হরিপালে দেখা গেল ঠিক উল্টো ছবি। হরিপাল ব্লক কৃষি দফতরের সামনে দীর্ঘ লাইন। কারণ শুক্রবার থেকেই চাষীদের থেকে আলু কেনার জন্য টোকন দেওয়া শুরু হয়েছে। এই টোকেনেই আলু মজুত হবে হিমঘরে। পরবর্তীতে হিমঘর থেকে সেই আলু কিনবে রাজ্য। কিন্তু কবে মিলবে টাকা তা কারও জানা নেই।
শুরু থেকেই আলুর দাম একেবারে তলানিতে। মাথায় হাত গোটা রাজ্যের কৃষকদের। এখন অভাবী বিক্রি রুখতে সহায়ক মূল্যে আলু কিনছে রাজ্য সরকার। ৫০ কেজির এক বস্তা আলুর জন্য ৪৭৫ টাকা দেবে রাজ্য। বর্তমানে খোলা বাজারে আলুর দাম ১৫০ টাকা থেকে ২২০ টাকার মধ্যে ওঠা নামা করলেও সেখানে ঝামেলা। জলের দরে আলু দিতে চাইলেও নিস্তার নেই। চাষীদের থেকে আলু কেনার ব্যাপারে অনীহা আলু ব্যবসায়ীরাদের।
এখন সরকার আলু কিনলেও লাভ কি হবে কৃষকদের? রাজ্য সরকারের নির্ধারিত দাম কতটা সুরাহা দেবে? কৃষক প্রতি ৭০ বস্তা আলু কিনবে রাজ্য। বাকি আলুপ কি হবে তার উত্তর অজানা। এক বস্তা আলু উৎপাদনে চাষীর খরচ প্রায় ৩৭৫ টাকা। মাঠ থেকে আলু বাছাই, প্যাকেট করে হিমঘর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে খরচ ৭৫ টাকা। অর্থাৎ এক বস্তা আলু উৎপাদন এবং হিমঘর পযন্ত পৌঁছে দিতে চাষীর খরচ পড়ছে ৪৫০ টাকা। আর সরকারি সহায়ক মূল্য ৪৭৫ টাকা। বস্তা প্রতি চাষীদের লাভ ২৫ টাকা। বিঘা প্রতি লাভ হতে পারে ২০০০ টাকা। তিন মাস ধরে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ করার পর এই ছবি যে দেখতে হবে তা ভাবতেই পারছেন না কৃষকরা। অনেকেই বলছেন সরকারি সহায়ক মূল্য আলু দিয়েও চিঁড়ে কিছুই ভিজবে। সহায়ক মূল্য বাড়ানোর দাবিতে ইতিমধ্যেই আন্দোলনেও নেমেছেন অনেকে।