
গোঘাট (হুগলি): শনিবার রাতে দুষ্কৃতী হামলা চলেছিল বাঘাযতীনের সিপিএম (CPIM) পার্টি অফিসে। আর এবার হুগলির গোঘাট। সেখানেও সিপিএম পার্টি অফিসে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ। ভাঙা হয়েছে সিপিএম-এর শহিদবেদী। ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে পতাকা। শুধু তাই নয়, অভিযোগ রবীন্দ্রনাথের ছবির ফ্রেম ভাঙচুর। বাদ যায়নি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ছবির ফ্রেমও। সেটিও ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠছে বিজেপির বিরুদ্ধে। অভিযোগ অস্বীকার করে বিজেপি বিধায়কের দাবি, সিপিএম-এর গোষ্ঠী কোন্দলের ফল।
কী ঘটেছে?
মূলত, CITU-র একটি সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল গোঘাটের লাল পার্টি অফিসে। তার প্রস্তুতি চলছিল। অভিযোগ, গোঘাটের রেজিস্ট্রি অফিস এলাকায় বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা প্রথমে পতাকা খুলে নিতে বলেন। সিপিএম কর্মীরা রাজি না হওয়ায় তাঁদের মারধর করা হয় এবং জোর করে পতাকা খুলে দেওয়া হয়। এরপরই গোঘাট-১ নম্বর এরিয়া কমিটির পার্টি অফিসে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে। অফিসের দরজা-জানালা ভাঙচুর করা হয়। ভিতরে থাকা বিভিন্ন সামগ্রী লন্ডভন্ড করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
মূলত, সম্মেলন উপলক্ষে শনিবার রাত থেকেই অফিসের ভিতরে রান্নাবান্নার আয়োজন চলছিল। অভিযোগ, সেই আয়োজনও নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। অফিসের ভিতরে ছড়িয়ে রয়েছে ভাঙা কাচ ও ইটের টুকরো। ভেঙে দেওয়া হয়েছে পার্টি অফিসের দরজাও। পার্টি অফিসের সামনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে লাল ঝাণ্ডাও।
সিপিএমের আরও অভিযোগ, দলের প্রবীণ নেতা তথা হুগলি জেলা কৃষক সমিতির সভাপতি ভাস্কর রায়কেও মারধর করা হয়েছে। তাঁর মোবাইল ফোনও ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় গোঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে সিপিএম। বন্ধ করে দেওয়া হল পার্টির সম্মেলন। সিপিএম নেতৃত্বের দাবি, দলীয় পতাকা লাগানোকে কেন্দ্র করে এই হামলা গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। ভাস্কর রায় বলেন, “আমায় পতাকা খুলে নিতে বলেছে। আমি বলেছি খুলব না। তখন মারধর করেছে।”
কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, “বিজেপি লুম্পেনদের দলে পরিণত হচ্ছে নাকি লুম্পেনদের উপর বিজেপি নির্ভর হয়ে যাচ্ছে? কালকে যাদবপুরে তার আগে সোনারপুরে লাগাতার অসভ্যতা করেছে। আজ আরামবাগে পার্টি অফিসে ভাঙচুর করেছে। আর কোনও বিদেশী নয়, বাংলায় যাঁদের জন্ম সেই রবীন্দ্রনাথ-বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের ছবি ভেঙেছে। এর আগে নেতাজী-সুকান্তের ছবি ভেঙেছে। এদের কাছ থেকে কেউ ছাড় পাবে না?”
অন্যদিকে গোঘাটের বিজেপি বিধায়ক অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, এটি সিপিএমের নিজেদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ঘটনা। গোঘাটের বিজেপি বিধায়ক প্রশান্ত দিগার বলেন, “তৃণমূলের একটা অংশ সিপিএম-এর সঙ্গে জুড়ে গেছে। সেই কারণে নিজেদের মধ্যে গোষ্ঠী কোন্দল এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে নিজেরাই নিজেদের মারধর করছে।”