
চন্দননগর: ওড়িশা থেকে বাংলায় পাচারের পথে বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করল সিআইডি। ময়দানে চন্দননগর থানার পুলিশ। শুক্রবার ভোররাতে চন্দননগর সংলগ্ন দিল্লি রোডে একটি রুদ্ধশ্বাস অভিযানের পর মাদক ভর্তি একটি ট্রাকটি আটক করা হয়। উদ্ধার হয়েছে প্রায় ১৩২.৮৬ কেজি গাঁজা। ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে দুই পাচারকারীকে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর ছিল ওড়িশার বালাসোর থেকে একটি পণ্যবাহী ট্রাকে বিপুল পরিমাণ গাঁজা নদিয়ার করিমপুরের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই দিল্লি রোডের শ্বেতপুর এলাকায় ওৎ পেতে ছিল সিআইডি এবং চন্দননগর পুলিশের একটি বিশেষ দল। রাত তিনটে নাগাদ সন্দেহভাজন ট্রাকটি এলাকায় আসতেই পুলিশ সেটিকে থামতে বলে।
কিন্তু নাকা চেকিং দেখে ট্রাকটি গতি বাড়িয়ে চন্দননগরের দিকে পালানোর চেষ্টা করে। সঙ্গে সঙ্গে ধাওয়া করে পুলিশ। শেষ পর্যন্ত চন্দননগর রেল ওভারব্রিজ পার হয়ে কোলুপুকুর এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ একটি ট্রাককে রাস্তার মাঝখানে আড়াআড়িভাবে দাঁড় করিয়ে দেয়। পালানোর পথ না পেয়ে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ইলেকট্রিক পোস্টে ধাক্কা মারে সেখানেই থেমে যায়।
পুলিশ ঘটনাস্থলেই গাড়ির চালক বিশাল সরকার এবং খালাসি সোনারুল খাঁ-কে ধরে ফেলে। বিশাল মুর্শিদাবাদের জলঙ্গীর বাসিন্দা, সোনারুলের বাড়ি নদিয়ার হোগলবেড়িয়ায় বলে জানা যাচ্ছে। ট্রাকটিতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে দেখা যায়, উপর থেকে দেখলে মনে হবে শুধু মাছের খালি ক্রেট বোঝাই করা। কিন্তু সেই ক্রেটগুলি সরাতেই নিচে থেকে বেরিয়ে আসে বস্তাবন্দি বিপুল পরিমাণ গাঁজা। পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া মাদকের ওজন প্রায় ১৩২.৮৬ কেজি।
এদিন চন্দননগর থানায় একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন চন্দননগর পুলিশের ডিসিপি অর্ণব বিশ্বাস। সেখানে সিআইডি এবং পুলিশের অন্যান্য পদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। ডিসিপি জানান, বর্তমানে ধৃত দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এই চক্রের সাথে আন্তঃরাজ্য পাচারকারী দলের আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।