
গোঘাট: বদলেছে সরকার। মসনদে বিজেপি। রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই একবার রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে তৃণমূলের একের পর এক দুর্নীতির খবর সামনে এসেছে। এবার হুগলির গোঘাটের শ্যামবাজারে দেখা গেল অভিনব প্রতিবাদী পোস্টার। তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তুলেই দেওয়া হয়েছে এই পোস্টার। সাফ লেখা, “দুর্নীতির টাকা ফেরত দাও, না হলে ছাড় নেই”। এই পোস্টার নিয়েই এখন সরগরম জেলার রাজনৈতিক মহল।
পোস্টারে অভিযোগ করা হয়েছে, শ্যামবাজার এলাকায় একের পর এক সরকারি প্রকল্পকে হাতিয়ার করে সাধারণ মানুষের প্রাপ্য টাকা লুঠ করা হয়েছে। রাস্তা নির্মাণ থেকে বাংলার আবাস যোজনা, জব কার্ড থেকে শৌচালয় প্রকল্প, এমনকি গাছ কাটার টাকাতেও কাটমানি! এলাকার বড় অংশের মানুষের অভিযোগ, গরিব মানুষের হকের টাকা না দিয়ে স্থানীয় কিছু তৃণমূল নেতা নিজেদের পকেট ভরেছেন।
পোস্টারে ছেড়ে কথা বলা হয়নি সেই সব তৃণমূল নেতাদেরও। বেশ কয়েকজন তৃণমূল নেতার নাম ধরে ধরে দুর্নীতির অভিযোগে তোপ দাগা হয়েছে। ফলে গোটা ঘটনায় যে শাসকদলের অস্বস্তি অনেকটাই বাড়ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এদিনই গোঘাটের শ্যামবাজারে প্রাক্তন তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি নিতাই নন্দীর বাড়ির সামনেও তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে দেখা যায় গ্রামের লোকজনকে। এর আগে ২৫ মে প্রাক্তন তৃণমূল পঞ্চায়েত প্রধান তথা বর্তমান তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি গিয়াসউদ্দিন খান ও তাঁর দাদা শাহাবুদ্দিন খানের বিলাসবহুল বাড়ির সামনেও পোস্টার দিয়ে বিক্ষোভ দেখায় গ্রামবাসীরা।
অন্যদিকে এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। সুর চড়িয়েছেন গোঘাট ২ এর বিজেপির মণ্ডল সভাপতি তমাল ঘোষ থেকে শুরু করে পুরশুড়ার বিজেপি বিধায়ক বিমান ঘোষও। তাদের দাবি, এটা কেবল পোস্টার নয়, এটা মানুষের জমে থাকা রাগের বিস্ফোরণ। যদিও পোস্টার কারা লাগিয়েছে তা এখনও ধোঁয়াশার মধ্যে। অন্যদিকে তৃণমূলের তরফে এ ঘটনায় কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।