
হুগলি: পরীক্ষার ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে বাড়ি থেকে স্কুল ব্যাগ আর মোবাইল নিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল। থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেছিল পরিবার। পুলিশ খুঁজেও বার করে আনে তাকে। ছেলেকে ফিরে পেয়ে খুশি হয়ে যান বাবা-মা। কিন্তু সেই ছেলেই বাড়ি ফিরে তুঁতে খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। চুঁচুড়ার মেধাবী ছাত্রের এহেন সিদ্ধান্তে স্তব্ধ পরিবার-গোটা গ্রাম।
পরীক্ষার দুদিন আগে গত শুক্রবার বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যায় চুঁচুড়ার ২নম্বর কাপাসডাঙ্গা এলাকার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী সুমন পাল। পরিবার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকাল ৫টা নাগাদ বাড়ি থেকে বের হয় সে। বহু খোঁজাখুঁজির পরেও খোঁজ না মেলায় শনিবার চুঁচুড়া থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করে পরিবার। রবিবারের তাকে খুঁজে বাড়ি পৌঁছে দেয় পুলিশ।
ছেলে বাড়ি ফিরে আসায় খুশি ছিলেন বাবা-মা। মেধাবী ছাত্রের টেস্টের ফলও খুব ভালো ছিল। পরীক্ষা নিয়ে ছেলের সেরকম কোনও চিন্তাও ছিল না বলে পরিবার জানাচ্ছে। কিন্তু সেই সুমনই বাড়ি ফিরে গিয়ে তুঁতে খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে।
রবিবার সকাল থেকে হঠাৎই বমি করতে থাকে সুমন। সন্দেহ হওয়ায় জিজ্ঞেস করতে সে জানায় ঠাকুর রঙ করার জন্য রাখা তুঁতে রঙ খেয়েছে। ছাত্রের পরিবারের ঠাকুর তৈরির ব্যবসা। তাই ঘরে থাকে তুঁতে রঙ।
তড়িঘড়ি তাকে উদ্ধার করে চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে। ছাত্রের বাবা জানিয়েছেন, ছেলে পরীক্ষা দিতে ভয় পাচ্ছে এমনটা বলেনি। কী কারণে এমন করছে জানি না।
পরীক্ষা গরবাটি স্কুলে পরীক্ষার সিট পড়েছে। সেখানে যোগাযোগ করা হচ্ছে। যাতে হাসপাতালে বসে পরীক্ষাটা দিতে পারে।