
হুগলি: ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে বিপর্যস্ত কৃষিকাজ। পাকা ধানে মই। আলুর জমিতে জল। হিমঘরে আলু বিক্রি করে ৫০ কেজির বস্তায় হাতে মিলছে মাত্র ১০-২০ টাকা। মাথায় হাত হুগলির চাষিদের।
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’এর প্রভাবে ঝড়-বৃষ্টি ও নিম্নচাপের জেরে চরম দুশ্চিন্তায় হুগলি জেলার কৃষকরা। আরামবাগ ও গোঘাটের বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে বৃষ্টির জল জমে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। কোথাও জমিতে জল জমে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে আলুর বীজের, কোথাও আবার মাটিতে শুয়ে পড়েছে পাকা ধান।
অসময়ের বৃষ্টিতে একদিকে যেমন ক্ষতির মুখে পড়েছে ধান চাষ, তেমনই পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে আলু চাষেও। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে আউশ ও আমন ধানের জমিতে জল জমেছে। মাঠের পাকা ধান ঝড়-বৃষ্টিতে মাটিতে শুয়ে পড়েছে। নুয়ে গিয়েছে কাঁচা ধান গাছও। এমনকী, জমা জলের মধ্যে থেকে কাটা আউশ ধান ছেঁকে তুলতে দেখা যাচ্ছে কৃষকদের।
সময়মতো ফসল ঘরে তুলতে না পারলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাঁদের। অন্যদিকে, আউশ ধান কেটে জমি তৈরি করে আগেভাগে পোখরাজ আলুর বীজ বসিয়েছিলেন আরামবাগ ও গোঘাট এলাকার বহু কৃষক। কিন্তু বৃষ্টির জলে সেই আলুর জমি ভেসে যাওয়ায় বীজ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জমিতে জল জমে থাকলে আলু চাষের কাজ ব্যাহত হবে। ফলে নির্ধারিত সময়ে আলু চাষ শুরু করা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
এদিকে আলুর বাজারদর নিয়েও চরম সমস্যায় পড়েছেন চাষিরা। প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির হুগলি জেলা সভাপতির দাবি, হিমঘরে মজুত আলু বিক্রি করে ৫০ কেজির এক বস্তায় চাষিদের হাতে মিলছে মাত্র ১০ থেকে ২০ টাকা। একদিকে হিমঘরের আলু বিক্রি করে নামমাত্র টাকা, অন্যদিকে নতুন করে আলু চাষে জলজনিত ক্ষতির আশঙ্কা সব মিলিয়ে দিশেহারা কৃষকরা। শুধু আউশধান বা আলু চাষই নয়, আমন ধানের জমিতেও প্রভাব পড়েছে এই বৃষ্টির।
কয়েকদিন আগেও যে জমিতে সেচের জল দিতে হচ্ছিল, সেখানে এখন বৃষ্টির জল জমে গিয়েছে। ঝড়-বৃষ্টিতে আমন ধান মাটিতে শুয়ে পড়ায় ফলন নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দমকা হাওয়ায় আমনধানের শীষ ভেঙে জমিতে শুয়ে গিয়েছে। সব মিলিয়ে অসময়ের বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় হুগলির কৃষিক্ষেত্রে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। ধান ও আলু, দুই ফসলেরই ক্ষতির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন আরামবাগ ও গোঘাট সহ হুগলীর কৃষকরা। দ্রুত জল না নামলে এবং আবহাওয়ার উন্নতি না হলে কৃষকদের লোকসান আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।