
হুগলি: ভেঙে খানখান হয়ে গিয়েছে তৃণমূল। লোকসভায় তৃণমূলের বিদ্রোহী ব্লকে নাম লিখিয়ে ফেলেছেন হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে তাঁর কাছে হেরেছিলেন বিজেপির লকেট চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু রাজ্যে এবার পালাবদল হতেই খানিক অন্য রূপেই ধরা দিচ্ছেন হুগলির সেলিব্রেটি সাংসদ। শোনা যাচ্ছে তিনি এবার রাজ্যের এক মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন। তা নিয়েই জল্পনা রাজনৈতিক আঙিনায়।
এদিকে ৪ মে ভোটের ফল ঘোষণার পর দেখা যায় গেরুয়া আবির মাখা বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে সেলফি তুলছেন হুগলির সাংসদ। তখনই জল্পনার সূত্রপাত হয়। এরইমধ্যে দিল্লিতে বিদ্রোহী সাংসদদের ব্লকে নাম লেখানোয় জল্পনা আরও তুঙ্গে ওঠে। সূত্রের খবর, এবার রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকারকে ফোন করে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন রচনা। সুমনা আবার যে বিধানসভার বিধায়ক সেই বলাগড় বিধানসভা হুগলি লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যেই পরে। রচনা সুমনার অফিসে গিয়ে তাঁকে শুভেচ্ছা জানানোর ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন বলে খবর। যদিও সাড়া দেননি সুমনা।
সুমনার সাফ কথা, “উনি একজন সাংসদ। সৌজন্যের বার্তা দিতে চেয়েছেন। কিন্তু আমার কাছে পার্টি সবথেকে বড়। আমি আমার পার্টির বাইরে গাইডলাইনের বাইরে কিছু করতে পারব না। দল আমাকে যেভাবে নির্দেশ দিয়েছে সেভাবে চলেছি। আমার দল থেকে যদি বার্তা আসে নিশ্চয়ই আমি কথা বলব। কিন্তু আমার দল থেকে কোন নির্দেশ আসেনি।” এরপরেই তাঁর আরও সংযোজন, “আমার বিধানসভার এক একজন কর্মী আমার কাছে সম্পদ। তারা বুক চিতিয়ে লড়াই করেছে। তাই যারা লড়াই করেছে তাদেরও প্রাধান্য দেওয়া দরকার। তারা কি চাইছে বোঝা দরকার। আমার সঙ্গে অনেকে যোগাযোগ করতে চাইছে। কিন্তু আমাদের দলের যারা কার্যকর্তারা রয়েছেন তাদের একটা মতামত নেওয়াও অত্যন্ত প্রয়োজন। ওনার পিএ আমাকে ফোন করেছিলেন। বলেছিলেন আমার কার্যালয়ে আসবেন। এখন আমার যারা কার্যকর্তা রয়েছেন তারা যেটা ভালো বুঝবেন সেটা করবেন।” অন্যদিকে এ বিষয়ে রচনাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন তোলেননি।