
আরামবাগ: আলু চাষে বিপুল লোকসান। হিমঘরের ভাড়া মেটাতেও নাভিশ্বাস! মুখ্যমন্ত্রীর কাছে বিশেষ প্যাকেজের দাবি জানালেন কৃষক ও আলু ব্যবসায়ীরা। প্রতি বস্তা আলু উৎপাদন করতে, প্যাকেটজাত ও সংরক্ষণ করতে খরচ হয় প্রায় ৩৮০ টাকা। আর সেই আলু বস্তা প্রতি বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতি বস্তায় লোকসান হচ্ছে ২৮০ থেকে ২৯০ টাকা। কৃষকদের আশা, আগামী ৫ নভেম্বর পুরশুড়ার সরকারি সভায় বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করা হোক।
সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ, শ্রমিকের মজুরি থেকে শুরু করে হিমঘরে আলু সংরক্ষণ, প্রতিটি ক্ষেত্রেই দিনে দিনে বাড়ছে খরচ। অথচ বাজারে আলুর উপযুক্ত দাম না মেলায় উৎপাদন খরচটুকুও তুলতে পারছেন না চাষিরা। একই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ বাড়ছে আলু ব্যবসায়ীদেরও।
ব্যবসায়ীদের দেওয়া হিসেব অনুযায়ী, চলতি বছরে এক বস্তা আলু উৎপাদনের খরচই প্রায় ৩০০ টাকা। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে অতিরিক্ত নানা খরচ। আলু প্যাকেটজাত করার জন্য একটি বস্তা কিনতে হচ্ছে ৪০ টাকা দিয়ে। মাঠে আলু ঝাড়াই-বাছাই করে বস্তায় ভরার জন্য শ্রমিকদের দিতে হচ্ছে ২০ টাকা। মাঠ থেকে হিমঘরে আলু পৌঁছে দিতে পরিবহন খরচ পড়ছে আরও ৩০ টাকা। সব মিলিয়ে প্রতি বস্তা আলুর মোট খরচ দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৩৮০ টাকা।
হিমঘরে আলু বিক্রি করা হচ্ছে কমবেশি ১০০ থেকে ১১০ টাকায়। কোথাও কোথাও সর্বোচ্চ ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা দাম মিললেও তাতে উৎপাদন খরচ ওঠার কোনও সম্ভাবনা নেই। ফলে হিসেব অনুযায়ী, প্রতি বস্তা আলুতে প্রায় ২৮০ থেকে ২৯০ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষিদের।
কৃষকরা চান, তাঁদের উৎপাদন খরচ কমানোর ব্যবস্থা করতে হবে। তবেই ভবিষ্যতে তাঁরা এই পেশায় টিকে থাকতে পারবেন। এই প্রসঙ্গে গোঘাটের বিধায়ক প্রশান্ত দিগার জানিয়েছেন, তিনি নিজেও আলু ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী গড়বেতার সভা থেকেই জানিয়েছেন, আগামী ৫ নভেম্বর হুগলির পুরশুড়ায় সরকারি সভার মঞ্চ থেকে চাষিদের জন্য বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করা হবে। চাষি ও ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে মূলত তিনটি দাবি জানানো হয়েছে। প্রথমত, সার ও কীটনাশকের দাম কমানোর ব্যবস্থা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রতিটি ব্লকে মাটি পরীক্ষাকেন্দ্র তৈরি করে জমির ধরন অনুযায়ী চাষীদের সঠিক কৃষি পরামর্শ দিতে হবে। তৃতীয়ত, বিদ্যুতের বিল ও হিমঘরের ভাড়া কমাতে হবে।