
সিঙ্গুর: মহাকুম্ভে এবার ছিল বিরল যোগ। ১৪৪ বছর পর পর মেলে এই সুযোগ। তাই মেলার শুরু থেকেই কোটি কোটি মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন সঙ্গমে। মৌনী অমাবস্যা উপলক্ষে বুধবার মহাকুম্ভে অমৃত স্নানের আগেই ঘটে গিয়েছে বিপদ। মৃত্যু হয়েছে ৩০ জন পূণ্যার্থীর, এখনও নিখোঁজ অনেকে। এ রাজ্য থেকেও বহু মানুষ গিয়েছিলেন কুম্ভে। ফেরার পর জানালেন তাঁদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা।
মঙ্গলবার রাত থেকেই মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে প্রয়াগরাজে। অত্যাধিক ভিড়ের চাপে গভীর রাতে ঘটে যায় বিপত্তি। ধাক্কাধাক্কি ঠেলাঠেলিতে পদপিষ্ট হন বহু মানুষ। পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান অনেকে। পদপিষ্ট হয়ে ইতিমধ্যে ৩০ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে। পাশাপাশি আহত হয়েছেন আরও অনেকে।
সিঙ্গুর থেকে ট্রেনে করে গত সোমবার রওনা হয়েছিলেন কয়েকজন যুবক। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাঁরা পৌঁছন সঙ্গমে। বুধবার ভোরে ত্রিবেনী সঙ্গমে শাহী স্নান সারেন। তাঁরা জানিয়েছেন, প্রবল ভিড় ছিল সারারাত। পা নড়ানোর জায়গা ছিল না। তাঁরা যেখানে ছিলেন, সেখান থেকে কিছুটা দূরে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটলেও তখনও কিছু টের পাননি তাঁরা। ফেরার সময় ঘটনাস্থলের দিকে চোখ যেতেই চমকে যান।
সিঙ্গুরে নেমে রাজু রুই দাস বলেন, “আমরা রাতে গঙ্গার ঘাটেই ছিলাম। কিন্তু সেভাবে কিছু বুঝতে পারিনি। মাইকে একবার ঘোষণা হল হুড়োহুড়ি করবেন না, আস্তে আস্তে স্নান করে নেবেন। পরে স্নান সেরে আসার সময় দেখলাম, চারিদিকে কম্বল, ব্যাগ, জুতো, ঘট, জামা-প্যান্ট পড়ে আছে।” ততক্ষণে একের পর এক মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে।