
চুঁচুড়া: ২ বছর আগে রাজনীতিতে এসেছেন তিনি। তৃণমূলের টিকিটে জেতেন। এখন অবশ্য NCPI সাংসদ তিনি। হুগলির সেই সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার বিজেপি বিধায়কের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। বুধবার চুঁচুড়ার বিজেপি বিধায়ক সুবীর নাগকে পাশে নিয়ে রচনা বললেন, ‘চুঁচুড়ায় মনের মতো বিধায়ক পেয়েছি।’ একইসঙ্গে জানালেন, “যে স্বপ্ন নিয়ে রাজনীতিতে এসেছিলাম তাতে ব্যাঘাত ঘটেছে। তাই দল পরিবর্তন করেছি। আমরা মোদিজি, অমিত শাহজি, শুভেন্দুদার সাপোর্টার।”
এদিন হুগলি জেলাস্তরে দিশা কমিটির অনুষ্ঠানে চুঁচুড়া রবীন্দ্রভবনে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। অনুষ্ঠান শেষে তিনি বলেন, “কোনও চিন্তাভাবনা নিয়ে রাজনীতিতে আসিনি। এখানে যদি দাদার সহযোগিতা পাই, মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর সহযোগিতা পাই, আমাদের হুগলির প্রচুর উন্নয়ন হবে। আমরা সবাই ভারতীয় জনতা পার্টির সাপোর্টার। আমরা জানি ভালো কাজ হবে। আমরা আর কিছু চাই না। আগে কী হয়েছে, কী হত না, সেসব পোস্টমর্টেম করে এখন লাভ নেই। আমাদের লক্ষ্য এখন রাজ্যের উন্নয়ন।”
তৃণমূলের শহিদ দিবস পালন নিয়ে কী বললেন রচনা?
তৃণমূলের শহিদ দিবস পালন নিয়ে রচনা বলেন, “একুশে জুলাই ভীষণ একটা আবেগময় দিন। এটার মধ্যে ভালো তৃণমূল, খারাপ তৃণমূল এসব নেই। এগুলোকে পিছনে ফেলে রেখে যারা ওই দিন শহিদ হন, তাঁদের আত্মার শান্তি কামনায় দিনটাকে পালন করা উচিত।”
বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তাসের ঘরের মতে ভেঙে পড়ছে তৃণমূল। একের পর এক নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছাড়ছেন। এই নিয়ে রচনা বলেন, “যাঁরা বহু বছর ধরে তৃণমূল কংগ্রেস করছেন, তাঁদের সঙ্গে আমার বক্তব্যের তফাত থাকবে।আমি একটা অন্য জায়গা থেকে এসেছি। আমার রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড নেই। আমি যা যা উপলব্ধি করেছি, যে স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলাম, সেখানে ব্যাঘাত ঘটেছে বলেই দল পরিবর্তন করেছি। বাকিরা কী মতামত দেবে, সেই সেটা তাদের ব্যাপার।”
চুঁচুড়া প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদারের সঙ্গে একসময় ‘ঠান্ডা’ লড়াই চলছিল রচনা। ছাব্বিশের নির্বাচনে অসিতকে টিকিট দেয়নি তৃণমূল। ঘাসফুল শিবিরের প্রার্থী হয়েছিলেন দেবাংশ ভট্টাচার্য। কিন্তু, বিজেপির সুবীর নাগের কাছে হেরে যান। এদিন সুবীর নাগকে পাশে নিয়ে একগাল হেসে রচনা বললেন, “চুঁচুড়ায় মনের মতো বিধায়ক পেয়েছি।” যাওয়ার সময় বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ রাখারও বার্তা দিয়ে যান রচনা।