
বলাগড়:
কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দরে প্রতিদিন প্রচুর জাহাজের আনাগোনা চলে। পন্য বোঝাই থেকে খালাস চলে অবিরাম। দিনভর গাড়ি আর মানুষের ব্যস্ততা থাকে চোখে পড়ার মতো। সেই কলকাতা বন্দরের ভার লাঘব করতে কেন্দ্রীয় সরকার বলাগড়ে মিনি বন্দর তৈরি করার সিন্ধান্ত নিয়েছে।
গত জানুয়ারি মাসে সিঙ্গুরে এসে প্রধানন্ত্রী এই প্রস্তাবিত প্রকল্পের শিলান্যাস করেন। আজ সোমবার শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি মিনি বন্দরের রাস্তা ও ব্রিজ তৈরির ভিতপুজো হল বলাগড়ে। সোমবার সকালে বলাগড় আসাম রোডের পাশে বারুইপাড়ায় ভিতপুজো হয়। উপস্থিত ছিলেন লকেট চট্টোপাধ্যায়, বলাগড়ের বিধায়ক তথা মন্ত্রী সুমনা সরকার, হুগলির জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি,পূর্ত দফতর ও পোর্ট ট্রাস্টের আধিকারিকরা। এই প্রজেক্ট ঘিরে আশায় বুক বাঁধছেন বলাগড়ের বাসিন্দারা।
১৯৯৬ সালে বাম সরকারের আমলে সিইএসসি বিদ্যুৎ কেন্দ্র করার জন্য জমি নিয়েছিল চাষিদের থেকে। পোর্ট ট্রাস্টেরও কিছু জমি রয়েছে সেখানে। কাজও শুরু হয়েছিল। ব্রিজ, রাস্তা তৈরি হয়ে গিয়েছিল। ২০০০ সালের ভয়ঙ্কর বন্যায় সেই ব্রিজের রাস্তা ধুয়ে নিয়ে চলে যায়। পরে বাতিল হয় বিদ্যুৎ প্রকল্প। ২৫ বছর ধরে সেই অবস্থায় পড়েছিল। অবশেষে বলাগড়ের শ্রীপুর চরে গড় উঠবে মিনি বন্দর।
শ্রীপুরে গঙ্গা প্রাকৃতিকভাবেই বন্দরের উপযোগী। গঙ্গা থেকে অর্ধ চন্দ্রাকৃতি খাড়ি পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে গিয়ে আবার গঙ্গায় মিশেছে। মাঝে যে চর রয়েছে, সেখানেই হবে বন্দর। জাহাজ আসবে, পন্য ওঠানামা করবে। কর্মব্যস্ততা তৈরি হবে। এলাকার আর্থ সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন হবে বলেও আশা করা হচ্ছে।
বলাগড় মূলত কৃষি প্রধান এলাকা। তাই বন্দর হলে কাজ হবে। পাশাপাশি বলাগড়ের গঙ্গা ভাঙন রোখা যাবে বলেও আশাবাদী স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। লকেট চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ৫৩৯ কোটি টাকার প্রকল্পের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ৯০০ একর জমি। দু বছর সময় লাগবে পুরো কাজ শেষ হতে। থাকবে রেল যোগাযোগ, তৈরি হবে রাস্তা, ব্রিজ।
প্রাক্তন সাংসদ বলেন, ১৫ বছর তার আগে ৩৪ বছর মানুষের কোনও প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের নামে যে বন্দর তৈরি হচ্ছে। তাতে কর্মসংস্থান হবে। এই কথা আমরা আগেই বলেছিলাম। এই বন্দরে সড়ক যোগাযোগ বাড়বে। রেল যোগাযোগ বাড়বে। জলপথে ও যোগাযোগ বাড়বে। এর মাধ্যমে বাংলায় উন্নয়ন হবে।