
চুঁচুড়া: একই অফিস তিনবার হাত বদল। বাম থেকে রাম সকলকেই দেখেছে এই অফিস। আগে বামেরা দিত,তারপর তৃণমূল এবার দেবে বিজেপি। হুগলির চুঁচুড়া খাদিনা মোড়ে সিপিএম (CPM)-এর শ্রমিক সংগঠন সিআইটিইউ এর অফিস ছিল। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর তা দখল করে তৃণমূল। চুঁচুড়ার তৎকালীন বিধায়ক অসিত মজুমদার অফিস হিসাবে ব্যবহার করতেন। রাজ্যে পালাবদলের পর সেই অফিস সিটুকে ফিরিয়ে দেন অসিত। তারপর ফের সেখানে লাল পতাকা উড়েছিল। যদিও, অফিসটি বন্ধই থাকত। এখন তা দখল করল বিজেপি কর্মীরা। মাস কয়েক আগে হঠাৎ একদিন বিজেপির গেরুয়া কর্মীরা সেই অফিস দখল নিলেন।
সোমবার আলো দিয়ে সাজিয়ে তোলা হয় খাদিনা মোড় অফিস। চুঁচুড়ার বিজেপি বিধায়ক সুবীর নাগ তার উদ্বোধনও করেন। বিধায়ক বলেন, “আগে বামেরা দিত। তৃণমূল দিয়ে এবার বিজেপি মানুষকে পরিষেবা দেবে এই অফিস থেকে।” এরপর সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, পালা বদলের পর একের পর এক অফিস যখন দখল হচ্ছিল তখন আপনি বলেছিলেন, আমরা দখলের রাজনীতি করব না। চুঁচুড়ার ২২ নম্বর ওয়ার্ডে দখল হওয়া তৃণমূলের একটি অফিস ফিরিয়েও দিয়েছিলেন নিজে উপস্থিত থেকে।তাহলে খাদিনা মোড়ে অফিস দখল কেন? বিধায়কের যুক্তি, “তৃণমূল ফিরিয়েছিল। সেই তৃণমূলের আর কোনও অস্থিত্ব নেই। আর বামেদের কোনও লোক নেই। তারা রাজ্যে যেদিন পঞ্চাশটা আসন পাবে পার্টি অফিস ফিরিয়ে দেব। এখন বিজেপি এই অফিস থেকে পরিষেবা দেবে।”
সিটু নেতা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় জবাব, “যেদিন বামেরা পঞ্চাস আসন পাবে সেদিন বিজেপি থাকবে না। ওরাও তৃণমূলের মত দখলের রাজনীতিই করছে। শুধু খাদিনামোড় না চুঁচুড়ার একাধিক অফিস দখল করেছে। কথায় আর কাজে মিল নেই বিজেপির। ওরা বড় দল টাকা আছে কিন্তু কিছু করার মুরদ নেই। তাই অন্যের অফিস দখল করতে হয়।”