
হুগলি: চন্দ্রকোণা, গলসির পর এবার গোঘাট। আলুর পর্যাপ্ত দাম না পেয়ে আত্মঘাতী আরও এক চাষি। এমনটাই দাবি পরিবারের। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম বাপন সুর।
১০ বিঘা জমি ভাগে নিয়ে আলু চাষ করেছিলেন বাপন। বর্তমানে আলুর দাম একেবারে নিম্নমুখী। গত বছর ৫০ থেকে ৬০ গাড়ি আলু ঋণ নিয়ে হিমঘরে রেখেছিলেন। এই আলু বস্তা প্রতি ৭০ টাকা হিসাবে বিক্রি হয়েছে। যার ফলে অনেকটাই ক্ষতির সম্মুখীন হন বাপন, এমনটাই দাবি পরিবারের। শনিবার রাত্রে গলায় ফাঁস লাগিয়ে নিজের বাড়িতেই আত্মঘাতী হন বাপন। বাড়ির লোকজনই বাপনকে উদ্ধার করে আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে, চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
হুগলিতে আলু চাষের পরিমাণ
হুগলিতে চাষ উপযোগী জমির পরিমাণ ২ লক্ষ ১০ হাজার হেক্টর জমি। যার মধ্যে ধান উৎপাদনের জন্য উপযোগী জমির পরিমাণ ১লক্ষ ৯০ হাজার হেক্টর, আলু উৎপাদনের জন্য উপযোগী জমির পরিমাণ ৯০ হাজার হেক্টর এবং বিভিন্ন ধরণের সবজি উৎপাদন হয় প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে।
এক নজরে হিসাব…
রাজ্য হিম ঘর থেকে আলু কিনবে, সেটা চুক্তিবদ্ধ
চাষি প্রতি ৭০ বস্তা আলু কিনবে রাজ্য। বাকি আলু কী হবে, তার উত্তর অজানা।
এক বস্তা (৫০ কেজি) আলু উৎপাদনে চাষির খরচ প্রায় ৩৭৫ টাকা। মাঠ থেকে আলু বাছাই, প্যাকেট করে হিম ঘর পর্যন্ত পৌঁছে দিতে খরচ ৭৫ টাকা।
অর্থাৎ এক বস্তা আলু উৎপাদন এবং হিমঘর পযন্ত পৌঁছে দিতে চাষির খরচ পড়ছে ৪৫০ টাকা
আর সরকারি সহায়ক মূল্য ৪৭৫ টাকা।
বস্তা প্রতি চাষিদের লাভ ২৫ টাকা।
বিঘা প্রতি লাভ হতে পারে ২০০০ টাকা।
তিন মাস ধরে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ করার পর সরকার চাষিদের লাভ দিচ্ছে ২০০০ টাকা। তাতেই বাড়ছে জটিলতা
রাজ্যে আলু চাষিরা তাঁদের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। গত শনিবার ব্রিগেডে এসে এই বিষয়টিকেও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, “চাষিরা আত্মহত্যা করছেন। পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে শুরু করে হুগলি, বর্ধমানে চাষিদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সরকারের মধ্যেই সমস্যা রয়েছে। দুর্নীতির কারণেই এই সব হচ্ছে, চাষিদের জীবন প্রশ্নের মুখে।”
রাজ্যে এইভাবে একের পর এক আলু চাষিদের মৃত্যুকে রাজ্য সরকারকেও কাঠগোড়ায় দাঁড় করিয়েছেন বিরোধীরা। বিজেপি মুখপাত্র জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এতদিন ওরা রোজ অস্বাভাবিক মৃত্যুর তালিকা খুঁজছিল। যেখানে মৃত্যু দেখলেই এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যু বলত। কিন্তু চাষিদের মৃত্য়ু দেখতে পাচ্ছে না। আলুর রফতানি নিয়ে সরকারের যে নীতি, তার কারণেই এই সমস্যা। আলু বাইরে বিক্রি করতে না পারলেও দাম পড়ে যায়, তার সঙ্গে মহাজনীদের কারবার তো রয়েছেই।”
যদিও তৃণমূলের রাজ্য সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদারের দাবি, “ভারতের কোথাও কোনও কৃষকের মৃত্যু হলে, তার দায় কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির। আলু বাইরে পাঠালে, বাংলার বাজারে চাপ সৃষ্টি হবে। উপযুক্ত দাম দিয়ে আলু সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”