
আরামবাগ: ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণবে’-র প্রভাবে হওয়া অসময়ে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন হুগলি জেলার আরামবাগ ও গোঘাট এলাকার কৃষকরা। ধান ও আলু—উভয় প্রধান ফসলেই ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
১. ধান চাষের ক্ষতি:
প্রবল ঝড়-বৃষ্টিতে আউশ ও আমন ধানের পাকা গাছ মাটিতে শুয়ে পড়েছে এবং অনেক কাঁচা ধানের গাছও নুয়ে পড়েছে।
দমকা হাওয়ায় আমন ধানের শীষ ভেঙে নষ্ট হয়েছে। বহু জমিতে জল জমে যাওয়ায় কৃষকদের জল থেকেই কাটা আউশ ধান ছেঁকে তুলতে দেখা যাচ্ছে।
২. আলু চাষে অনিশ্চয়তা:
আউশ ধান কেটে জমি তৈরি করে অনেক কৃষক আগেভাগেই ‘পোখরাজ’ আলুর বীজ বসিয়েছিলেন। কিন্তু বৃষ্টির জলে সেই জমি ভেসে যাওয়ায় বীজ পচে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অতিরিক্ত জল জমার কারণে সময়মতো নতুন আলু চাষ শুরু করা নিয়েও দেখা দিয়েছে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা।
৩. বাজারদরের মার:
একদিকে প্রকৃতির মার, অন্যদিকে হিমঘরে মজুত পুরনো আলু বিক্রি করেও চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে চাষিরা। প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির হুগলি জেলা সভাপতির তথ্য অনুযায়ী, হিমঘরের আলু বিক্রি করে ৫০ কেজির এক বস্তায় চাষিদের হাতে মাত্র ১০ থেকে ২০ টাকা আসছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরে একদিকে উৎপাদিত ফসলের ক্ষতি এবং অন্যদিকে নতুন চাষ ব্যাহত হওয়ায় দিশেহারা হুগলির কৃষিমহল। দ্রুত জমি থেকে জল না নামলে এবং আবহাওয়া স্বাভাবিক না হলে চাষিদের লোকসানের পরিমাণ আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এক চাষি বলেন, “স্টোরেজে আলু পচছে। ধানের এই অবস্থা। মরে মরে বেঁচে আছে চাষিরা। কৃষক বন্ধুর সাহায্যে যাতে চাষিদের দিকে একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় সরকার।”
হুগলি জেলা পশ্চিমবঙ্গ প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তাফা বলেন, “আলুর বাজার নেই। যখন সময় খারাপ, সব দিক থেকে খারাপ। একে বাজার নেই, তার মধ্যে অকাল বর্ষণ, ধান উঠবে, সে সময়েও বৃষ্টিতে নষ্ট। যারা আলু বীজ লাগিয়েছে, সব নষ্ট হয়ে যাবে বৃষ্টিতে। আবার নতুন করে সব করতে হবে।”