
শেওড়াফুলি: রাজ্যে ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের। উচ্ছ্বসিত বিজেপি কর্মী, সমর্থকরা। তবে তৃণমূলের পরাজয়ে উৎসবের আমেজ হুগলির শেওড়াফুলির যৌনপল্লিতেও। গতকাল শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর রবিবার শেওড়াফুলিতে যৌনপল্লিতে যেন অকাল হোলি। কেন? অভিযোগ, যৌনপল্লিতেও তৃণমূল তোলাবাজি করত। তৃণমূল হারায় বন্ধ হয়েছে জুলুমবাজি। আনন্দে এদিন বিরিয়ানি, মিষ্টি বিলি করে আবির খেললেন শেওড়াফুলির যৌনকর্মীরা।
গতকাল শপথ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। আর তাতেই স্বাধীনতার স্বাদ পাচ্ছে শেওড়াফুলি যৌনপল্লির বাসিন্দারা। যৌনকর্মীদের অভিযোগ, এতদিন তাঁদের উপর জুলুমবাজি চলত। চাঁদা তোলার নামে চলত তোলাবাজি। তার প্রতিবাদ করলেই জল, দুধ বন্ধ করে দেওয়া হত। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সেই সমস্যা সাময়িক মিটলেও পরে আবারও তোলাবাজি চলত।
অবশেষে সরকার বদল হয়েছে। পরিস্থিতি বদল হতে শুরু করেছে। তাই যৌন কর্মীরাও নতুন করে ‘স্বাধীনতা’-র স্বাদ পেয়েছেন। এদিন শেওড়াফুলির যৌনপল্লিতে গেরুয়া আবির খেলে সবাইকে মিষ্টি মুখ করানো হয়। চলে বিরিয়ানি বিলি।
কী বলছেন যৌনকর্মীরা?
এদিন নিজেদের গেরুয়া আবিরে রাঙিয়ে যৌনকর্মীরা বলেন, “তৃণমূলের গুন্ডাবাহিনী বাড়িওয়ালা ও আমাদের কাছ থেকে টাকা নিত। আমাদের মারতে পর্যন্ত এসেছিল। এখন আমাদের মনে হচ্ছে, আর কেউ আমাদের ভয় দেখাতে পারবে না। ফল ঘোষণার পর এখন আর তোলা চাইতে আসেনি।”
কী বলছে বিজেপি ও কংগ্রেস?
চাঁপদানির সদ্য জয়ী বিজেপি বিধায়ক দিলীপ সিং বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এখানে এসে বলেছিলেন, ভয় আউট, ভরসা ইন। চার তারিখের পর ভয়ে টাকা নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা বলেছি, প্রত্যেক দুর্নীতির তদন্ত হবে। যারা টাকা নিয়েছে, দুর্নীতি করেছে, তাদের ভয় লাগবে। আর সাধারণ মানুষের মধ্যে ভরসা থাকবে। এতদিন তৃণমূল শুধু তোলাবাজি করেছে। এসব বন্ধ হয়ে যাবে।”
ওই পল্লি যে ওয়ার্ডে রয়েছে, সেই সাত নম্বর ওয়ার্ডের কংগ্রেস কাউন্সিলর বিশ্বজিৎ সিংহ বলেন, “টাকা নেওয়া হত, এটা শুনেছি। তবে পল্লির যৌনকর্মীরা চুপ করে ছিলেন। কিছু বলতেন না। এখন তাঁরা মনে করছেন তাঁদের ভালো হবে।” তবে তিনি দাবি করেন, যৌনকর্মীরা গেরুয়া আবির মাখলেও বিজেপি হয়ে যাননি। যৌনকর্মীদের অভিযোগ নিয়ে তৃণমূলের কারও কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।