Hooghly: ছেলের আব্দার শুনে ঘুগনি-রুটি কিনে দেন, নবমীর রাতে এমন বীভৎস দৃশ্য দেখতে হবে, কল্পনাও করেননি বাবা

সোম্বার দাদা মঙ্গল মুর্মু জানান, বাড়িতে কোনও অশান্তি হয়নি। তিনি বাইরে ছিলেন। পরে তাঁকে ডেকে এই ঘটনার কথা জানানো হয়। পরিবারের সদস্য শ্যামলী মুর্মু বলেন, "দেওর অনেক ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে আমাকে ডাকেন। এরপরই আমরা ঘটনাটি জানতে পারেন।" স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনও ঝামেলা ছিল না বলেই জানিয়েছেন আত্মীয়রা।

Hooghly: ছেলের আব্দার শুনে ঘুগনি-রুটি কিনে দেন, নবমীর রাতে এমন বীভৎস দৃশ্য দেখতে হবে, কল্পনাও করেননি বাবা
প্রতীকী ছবিImage Credit source: AI Generated Image

| Edited By: তন্নিষ্ঠা ভাণ্ডারী

Oct 21, 2026 | 8:46 PM

হুগলি: নবমীর রাতে বাবার কাছে ঘুগনি-রুটি খাওয়ার আবদার করেছিল ১২ বছরের ছেলে। বাবাও ছেলের আব্দার মেনে খাবার কিনে দিয়েছিলেন। মা ও ছেলে রাতে একসঙ্গে সেই খাবার খান। রাতেই বাড়ি থেকে উদ্ধার হল মা ও ছেলের মৃতদেহ। মঙ্গলবার গভীর রাতে ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়াল হুগলির পান্ডুয়া থানার অন্তর্গত বৈঁচিগ্রাম পঞ্চায়েতের চৌবাড়া এলাকায়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ডলি মুর্মু (৩১) ও তাঁর ছেলে রঞ্জিত মুর্মু (১২)-র দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে, রঞ্জিত শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিল। রঞ্জিতের বাবা সোম্বা মুর্মু দিনমজুরের কাজ করেন। মঙ্গলবার রাতে ছেলে ঘুগনি-রুটি খেতে চাওয়ায় তিনি খাবার কিনে বাড়িতে নিয়ে যান। এরপর বাড়ির কাছেই একটি ক্লাবে আড্ডা দিতে চলে যান তিনি। মা ও ছেলে একসঙ্গে রাতে খাবার খান।

রাত প্রায় ১১ টা নাগাদ বাড়ি ফিরে সোম্বা স্ত্রীকে ডাকাডাকি করেও সাড়াশব্দ পান না। এরপর তিনি তাঁর দাদা ও বৌদিকে ডাকেন। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। পুলিশ গিয়ে ঘরের মধ্যে থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে মা ও ছেলেকে। পাশের বিছানায় পড়েছিল ছেলের দেহ। মা ও ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সোম্বার দাদা মঙ্গল মুর্মু জানান, বাড়িতে কোনও অশান্তি হয়নি। তিনি বাইরে ছিলেন। পরে তাঁকে ডেকে এই ঘটনার কথা জানানো হয়। পরিবারের সদস্য শ্যামলী মুর্মু বলেন, “দেওর অনেক ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে আমাকে ডাকেন। এরপরই আমরা ঘটনাটি জানতে পারেন।” স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনও ঝামেলা ছিল না বলেই জানিয়েছেন আত্মীয়রা।

পুলিশ মা ও ছেলের দেহ উদ্ধার করে বুধবার ময়নাতদন্তের জন্য চুঁচুড়া ইমামবাড়া জেলা হাসপাতালে পাঠায়। মা ও ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরেই স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে কিশোরের দেহে কোনও আঘাতের চিহ্ন ছিল না। গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখছে পান্ডুয়া থানার পুলিশ।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us