
পুরশুড়া: খরচ বাড়ে, কিন্তু দাম মেলে না। বস্তায় বস্তায় বিপুল ক্ষতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় আলুচাষিদের (Potato Farmers)। চাষ থেকে গাড়ির ভাড়া, যা খরচ হয়, তাতে লাভের মুখ দেখতে পাননা বলে কৃষকদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে আলু রফতানি আটকে যাওয়ায় প্রবল ক্ষুব্ধ হন কৃষকরা। অনেক আশা নিয়ে নতুন সরকারের মুখের দিকে তাকিয়ে ছিলেন তাঁরা। বৃহস্পতিবার হুগলি জেলায় গিয়ে সেই আলুচাষিদের জন্য একের পর এক বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
এদিন হুগলির পুরশুড়ায় গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে আলুচাষিদের উপর অত্যাচার করা হয়েছে। আলুর গাড়ি সীমান্তে আটকে দেওয়া হয়েছে। পুলিশকে নির্দেশ দিয়ে আলুচাষিদের বিপন্ন করা হয়েছে।” তাঁর দাবি, দিনের পর দিন সারের কালোবাজারি হয়েছে, আলুচাষিরা উচিৎ মূল্য পাননি। এবার থেকে কোনও আলুর গাড়ি কেউ বর্ডারে আটকাবে না বলে আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষম করে রাখা ২৭ লক্ষ আলু ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নিষ্পত্তি করা হবে। সময়সীমা ৩১ ডিসম্বর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে।
গাড়িতে বা রেলে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতি কুইন্টালে ৫০ টাকা করে ভর্তুকি দেবে সরকার।
কৃষি পণ্য বিপনন নিয়ন্ত্রণ আইনে প্রতিটি কোল্ড স্টোরেজকে মার্কেটিয়ার ঘোষণা করা হবে। ফলে কোল্ড স্টোরেজের মধ্যে সমন্বয় ,সরকারের কাছ থেকে সহায়তা, কোল্ড স্টোরেজের বিক্রির স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে।
২০০টি মার্কেটিয়ারে ৫ ও ১০ মেট্রিক টন ক্ষমতার সৌর মিনি কোল্ড রুম স্থাপন করা হবে।
স্মার্ট মান্ডি ৫০টি মডেল মান্ডির উন্নয়ন করা হবে। প্রতি মান্ডিতে ৩ কোটি টাকা করে বরাদ্দ করা হচ্ছে।
সুফল বাংলার প্রসারে নতুন ৫৫০টি পোর্টেবল স্ট্যাটিক আউটলেট যুক্ত করা হবে। সেখানে উচিৎ মূল্যে আলু কিনে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর বিমা যোজনার আওতায় আনা হবে আলু চাষকে। ফলে, আলুর জন্য কৃষকদের বিমা দিতে হবে না। ওই টাকা সরকার পেমেন্ট করবে।
কুইন্টালে ৯৫০ টাকা করে মোট ৪.৭৫ লক্ষ কুইন্টাল আলু কেনা হয়েছে ৪৯টি হিমঘর থেকে। ৫৬৭টি হিমঘরে সংরক্ষণ করা হয়েছে সেই আলু। প্রতি কুইন্টাল আলুর দাম ১১২০ টাকা ফ্রি বন্ড মূল্যের নীচে বাজারদর নেমে গেলে সরকার ভর্তুকি দেবে। অর্থাৎ, আলু বিক্রির ক্ষেত্রে দামের ফারাক হলে, তা পূরণ করে দেবে সরকার।