
হুগলি: আগেও সরব হয়েছেন তিনি। রাজ্যে তৃণমূলের ভরাডুবির পর ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করলেন ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকী। মমতাকে নিশানা করে বললেন,”রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য ঠাকুরবাড়ি (ঠাকুরনগরে মতুয়াদের ঠাকুরবাড়ি) ও ফুরফুরা শরিফকে টুকরো টুকরো করতে চেয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। আজ তাঁর দলটাই ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল। ধর্মীয় স্থানকে রাজনৈতিক মাঠ হিসেবে ব্যবহার করলে যে কোনও রাজনৈতিক দল টুকরো টুকরো হয়ে যাবে এটা আগেই বলেছিলাম। আজ সেটাই হয়েছে। গোটা বাংলার মানুষ এবং ভারতবর্ষের মানুষ দেখছে।”
ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের আগে ঠাকুরবাড়ির দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছিল। অভিযোগ, ভারতে দ্বিতীয় মুসলিম তীর্থক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত ফুরফুরা শরিফকেও টুকরো টুকরো করতে পীরজাদাদের মধ্যে চিড় ধরানোর চেষ্টা করেছিল তৃণমূল। একদা তৃণমূল পন্থী ত্বহা সিদ্দিকীকে কোণঠাসা করতে কাশেম সিদ্দিকীকে তুরূপের তাস হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় মমতার বিরুদ্ধে ফুরফুরা শরিফকে টুকরো টুকরো করার অভিযোগ তুলেছিলেন ত্বহা সিদ্দিকী।
সেই প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ত্বহা বলেন, “তৃণমূল যদি ক্ষমতায় আসত, ঠিক যেভাবে ঠাকুরনগরে দ্বন্দ্ব লাগিয়ে টুকরো টুকরো করা হয়েছিল সেই ভাবেই ফুরফুরা শরিফকেও টুকরো টুকরো করা হত। যে কোনও রাজনৈতিক দলের উচিত কোনও ধর্মীয় স্থানকে নিয়ে রাজনীতি না করা।”
বিধানসভা ভোটে ভরাডুবির পর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর তৈরি দলের প্রতীকও হারাতে পারেন বিক্ষুব্ধদের কাছে। ত্বহা বললেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উন্নয়ন করেছেন। কিন্তু তাঁর দলের ছুঁচো ইঁদুর দলটাকে শেষ করে দিয়েছে। ধর্মীয় স্থান নিয়ে রাজনীতি করতে গিয়ে এবং ফুরফুরা শরিফকে টুকরো টুকরো করতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল টুকরো টুকরো হয়ে গেল।”