
উত্তরপাড়া: পুরনো চাল নাকি নতুন চাল? তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর দুই চালই দরকার। কিন্তু দলের অন্দরে ঠোকাঠুকি যেন লেগেই রয়েছে। গতকাল তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবসেও একগুচ্ছ ছবি ধরা পড়েছে। তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ থেকে শুরু করে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ ফিরহাদ হাকিম… একাধিক নেতার বক্তব্য প্রকাশ্যে এসেছে। আর এবার দলের অন্দরে এই দ্বন্দ্বের বিষয়ে প্রশ্ন শুনেই তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দিলেন, ‘দ্বন্দ্ব তো আমাদের মধ্যে আছেই। ছিল। থাকবে।’ এদিন হুগলির উত্তরপাড়ায় এক কর্মসূচিতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি। সাম্প্রতিক ঘটনা পরম্পরার নিরিখে তৃণমূলের অন্যতম প্রবীণ নেতার এমন মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
যদিও এরপরই মমতার ক্যাবিনেটের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী তথা দীর্ঘদিনের পোড় খাওয়া রাজনীতিক শোভনদেববাবু বললেন, “সব সময় মনে রাখতে হবে, দ্বন্দ্বের পরেই আবার প্রীতি সম্পর্ক হয়। দ্বন্দ্ব সব জায়গাতেই আছে। পৃথিবীর সব দলেই দ্বন্দ্ব থাকবে। দু’জন মানুষকে দেখতে এক হয় না, সুতরাং দ্বন্দ্ব থাকবেই। কিন্তু এই দ্বন্দ্ব নিয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তিন বার জিতেছেন। শেষ বার চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করেছেন। এ বছর আমাদের টার্গেট পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে অন্তত বিজেপিকে শূন্যে নামিয়ে আনা।”
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই টিভি নাইন বাংলাকে বর্ষীয়ান শোভনদেব জানিয়েছিলেন, তৃণমূলে প্রথম মুখ এবং একমাত্র মুখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। এদিন উত্তরপাড়া থেকে তৃণমূলের প্রবীণ নেতা জানালেন, দলের মধ্যে কোনও লড়াই নেই। বললেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমাদের নেত্রী চাই। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আমাদের সমানভাবে চাই।” এসব নিয়ে বিচলিত না হয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে যাতে রাস্তায় নেমে লড়াইয়ে জোর দেওয়া হয়, সেই বার্তাও দেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা।