
হাওড়া: ভোটের আবহে কালিয়াচক কাণ্ডে তৃণমূল-বিজেপিকে সরাসরি দায়ী করলেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। ফের একবার উস্কে দিলেন ‘বিজেমূল’ তত্ত্ব। এদিন হাওড়ার জগৎবল্লভপুরের আইএসএফ প্রার্থী নাজিরা খাতুনের সমর্থনে সন্তোষপুরে নির্বাচনী প্রচার সারেন তিনি। সেখানেই একযোগে লাগাতার তৃণমূল বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়াতে দেখা যায় তাঁকে। তাঁর দাবি, নির্বাচনে আইএসএফ-এর জয়ের সম্ভাবনা দেখে ভয় পেয়েছে দুই প্রধান দল। তাই পরিকল্পিতভাবে চক্রান্ত করে এই ঘটনায় আইএসএফ-এর নাম জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রার্থীকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠের লড়াইও সমান্তরালভাবে চলবে বলেও স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন।
প্রসঙ্গত, কালিয়াচকের ঘটনায় বৃহস্পতিবারই ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়। সেই তালিকায় ছিলেন আইএসএফ প্রার্থী শাহজাহান আলি কাদরি। তাঁর যদিও দাবি, তাঁকে চক্রান্ত করে ফাঁসানো হয়েছে। তাঁর কথায়, ঘটনার দিন তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না, অন্য একটি গ্রামে জলসায় ছিলেন। নওশাদও বলছেন, অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। এতে লাভ হবে না।
অন্যদিকে এ ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে মিম নেতা মোফাক্কেরুল ইসলামকেও। এই ঘটনায় মোট ৩৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কোমর বেঁধে তদন্তে নেমেছে এনআইএ। নওশাদ যদিও বলছেন, কোন সংস্থা তদন্ত করছে সেটি বড় কথা নয়, বড় কথা হল তদন্ত যেন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ হয়। তাঁর দাবি, গণতান্ত্রিক দেশে সবার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার রয়েছে। এর পাশাপাশি তিনি বিডিও-র ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
ভোটার তালিকা সংশোধন, নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও কড়া সমালোচনা করেন নওশাদ। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী আগে বলেছিলেন এ রাজ্যে সিএএ বা এনআরসি হতে দেবেন না, কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে কয়েক লক্ষ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।” এই পরিস্থিতির জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে বলেও দাবি নওশাদের।
এদিনের সভা থেকে নওশাদ স্পষ্ট জানান, কোনো বৈধ ভোটারের নাম যেন তালিকা থেকে বাতিল না হয়, তা নিশ্চিত করতে আইএসএফ রাস্তাতেই থাকবে। অন্যদিকে জগৎবল্লভপুরের প্রার্থী নাজিরা খাতুনের হয়ে প্রচারের সময় কর্মী-সমর্থকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। তা দেখে স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত নওশাদও।