
কলকাতা: অষ্টম শ্রেণিতে উঠলেই সাইকেল। মঙ্গলবার হাওড়ার ব্যাঁটরা ‘সারথি’ প্রকল্পের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুছে গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সবুজ সাথী’ প্রকল্পের নাম। এবার থেকে আর নবম শ্রেণিতে উঠলে নয়, অষ্টম শ্রেণিতে উঠলেই স্কুল থেকে সাইকেল পাবে পড়ুয়ারা। কেবল তাই নয়, স্কুল পড়ুয়াদের সাইকেল দেওয়ার জন্য বাংলায় আলাদা করে এক শিল্প সংস্থানেরও ঘোষণা করলেন তিনি। বাংলায় তৈরি হবে সাইকেল কারখানায়। আর তাতে হবে প্রচুর কর্মসংস্থান। প্রচুর অনুসারী শিল্পও তৈরি হবে।
‘সারথি’ প্রকল্পের সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করলেন সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যে শিল্পগোষ্ঠী বা সংস্থা সাইকেল বানাতে চায়, তাদের বিনামূল্যে জমি দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য, পূর্বতন সরকারের আমলে সবুজ সাথী প্রকল্পের সাইকেল নিয়ে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। সে প্রসঙ্গও এদিন উত্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আগের মুখ্যমন্ত্রী আত্মীয়দের থেকে সাইকেল কিনতেন। আমরা সাইকেল কারখানা তৈরির জন্য জমি দেব। নতুন সংস্থার কাছ থেকে সাইকেল কিনব।” উল্লেখ্য আগে পঞ্জাব থেকে সাইকেলের যন্ত্রাংশ নিয়ে আসা হয়। এখন তা বাংলাতেই তা তৈরি হবে। আগ্রহী শিল্পপতিকে জমি দেওয়ার কথাও ঘোষণা করলেন তিনি।
বাংলায় পালাবদলের পর সরকারি প্রকল্পগুলো নতুন করে দিশা দেখেছে। দিশা দেখছে শিল্পও। বাংলায় একাধিক শিল্পের পথ প্রশস্ত হচ্ছে। গ্রাম বাংলায় নতুন করে সাইকেল কারখানা তৈরি হলে আরও বেশি কর্মসংস্থানের পথ খুলবে। সেক্ষেত্রে বিশ্লেষকদের মতে, তাতে একাধারে স্কুলপড়ুয়াদের উন্নত মানের সাইকেলের পাশাপাশি অনুসারী শিল্পের পথও খুলবে।
২০১৫ সালে ‘সবুজসাথী’ প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমে ওই প্রকল্পে সাইকেল দেওয়া হত কেবলমাত্র ছাত্রীদের। পরে তা ছাত্রদেরও দেওয়া শুরু হয়েছে। সাইকেলের জন্য আলাদা করে আবেদন করতে হয় না। বিভিন্ন সরকারি এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলির পড়ুয়ারা নবম শ্রেণিতে উঠলেই এই প্রকল্পের সুবিধা পেত।
পাশাপাশি স্কুলপড়ুয়াদের জন্য মুখ্যমন্ত্রী এও জানিয়ে দেন, এবার থেকে আর ফোন নয়, কেবল মাত্র এডুকেশন রিলেটেড ট্যাবই দেওয়া হবে। তাঁর কথায়, “ছাত্রছাত্রীদের স্মার্ট ট্যাব দেওয়া হবে। বিভিন্ন স্কুলকে স্মার্ট স্কুল হিসেবে গড়ে তোলা হবে।” চলতি বছরে আরও ৮০০টি স্মার্ট স্কুল চালু হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।