
আমতা: মঞ্চে তখন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। তাঁর পাশে দাঁড়িয়েই অতীত মনে করিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপের পর তোপ দাগলেন বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। মনে করালেন এনডিএ-র হাতে হাত ধরে পথচলার কথা। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আবহে গোটা রাজ্যেই পরিবর্তন যাত্রা করছে বিজেপি। বাংলায় পা পড়ছে বিজেপির কেন্দ্রীয় স্তরের তাবড় তাবড় সব নেতাদের। এদিন আমতায় সভা ছিল রাজনাথ সিংয়ের। সেখানেই স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানালেন শমীক।
এসআইআর প্রক্রিয়ায় বৈধ নাম বাদের প্রতিবাদে মেট্রো চ্যানেলে ধরনা দিতে চলেছেন তৃণমূল সুুপ্রিমো। এদিন তা নিয়েও কটাক্ষ করেন শমীক। খোঁচা দিয়ে বলেন, “আজ আবার একটা নতুন দুর্বল চিত্রনাট্য শুরু হচ্ছে। ধরনার চিত্রনাট্য। দুর্ভাগ্যের বিষয় আগেও এরকমই একটি ধরনা চলেছিল ধর্মতলায়। সিঙ্গুর আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যেদিন তাঁর ধরনা মঞ্চকে সিঙ্গুর থেকে সরিয়ে ধর্মতলায় নিয়ে গিয়ে অন্ধ মৃত্যুর গলিতে পৌঁছে গিয়েছিলেন।” এরপরই মমতাকে অতীত মনে করিয়ে খানিক কটাক্ষের সুরেই বলেন, “সেদিন নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে, সেই অন্ধকার থেকে যিনি তাঁকে মুক্তি দিয়েছিলেন সেই মাননীয় রাজনাথ সিং এখন মঞ্চে। দুর্ভাগ্যের বিষয় যে রাজনৈতিক দল একদিন মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে বলেছিল যে বিজেপিকে আমরা কোনও সাম্প্রদায়িক দল বলে মনে করি না, যাঁরা কংগ্রেস ভেঙে ছিলেন লালকৃষ্ণ আদবানি, অটল বিহারী বাজপেয়ীর সমর্থন নিয়ে আজ তাঁদের হাতেই আমাদের কর্মীরা খুন হচ্ছে, আমাদের বাড়ি জ্বলছে। কিন্তু আমরা বলেছিলাম আমরা থাকতে এসেছিলাম, চলে যেতে আসিনি।”
শমীকের পরেই বক্তব্য রাখতে উঠে তৃণমূলের বিরুদ্ধে খড়গহস্ত দেখা যায় রাজনাথকেও। সাফ বলেন, “বাংলার মাটি থেকেই পরিবর্তনের ডাক এসেছে। এবার আর এদিক ওদিক হলে হবে না। আর টিএমসির অত্যাচার চলবে না। এবার মমতা যাচ্ছেন। বাংলার উৎসাহ তাই বলে দিচ্ছে। বাংলায় পরিবর্তন হলে দারুন গতিতে উন্নয়ন হবে। বিকাশ আর প্রগতি কেউ আটকাতে পারবে না।”