
মুর্শিদাবাদ: চলতি বছরের গত জুলাইতে দূরপাল্লার ট্রেনের ধাক্কায় উড়ে গিয়েছিল পুলকার, মৃত্যু হয়েছিল স্কুল পড়ুয়াদের। সেই দুর্ঘটনার পরই এবার সেই কর্ণসুবর্ণ সহ সংলগ্ন তিনটি ক্রসিংয়ে অত্যাধুনিক রেলগেট বসাল পূর্ব রেল।
কর্ণসুবর্ণতে ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছিল স্কুল পড়ুয়াদের। নন ইন্টারলকিং রেলগেট এবং গেটম্যানের ভূমিকা নিয়ে সবথেকে বেশি বিতর্ক হয়েছিল। অস্বস্তিতে পড়ে পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষও। এই অবস্থা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার অত্যাধুনিক এবং আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন রেলগেট বসাতে বাধ্য হল পূর্বরেল।
কর্ণসুবর্ণ সহ সংলগ্ন তিনটি অংশে প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তিনটি নন-ইন্টারলকড লেভেল ক্রসিং (NILC) গেট বসানো হল। ইন্টারলোকিং গেটের ঠিক আগের পর্যায় হচ্ছে এই নন-ইন্টারলকড লেভেল ক্রসিং। যা কর্ণসুবর্ণ-খাগড়াঘাট রোডে লেভেল ক্রসিংয়ে রিয়েল-টাইম নজরদারি করতে সাহায্য করবে।
চলতি বছরের ১৭ জুলাই কর্ণসুবর্ণ এবং গোবিন্দপুর রেল স্টেশনের মাঝখানে গোবিন্দপুর রেলগেটের কাছে দূরপাল্লার ট্রেনের ধাক্কায় উড়ে যায় একটি পুলকার। চারজন স্কুল পড়ুয়া এবং একজন সাইকেল আরোহী বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার পরই পূর্ব রেল আলোচনা শুরু করে এই এলাকার রেলগেটগুলিকে নিয়ে। কারণ ঘনবসতি এলাকা হওয়ায়, রেললাইনের আশপাশ এবং নিত্যদিন রেলগেট টপকে চলাফেরা করাকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছিল।যে কারণে এবার এই প্রযুক্তি নির্ভর এবং অত্যাধুনিক রেলগেট বসাতে বাধ্য হল পূর্ব রেল।
আজ, বুধবার সরেজমিনে পরিদর্শন করেন জেনারেল ম্যানেজার গীতিকা পাণ্ডে। তাঁর নেতৃত্বে একটি টিম এই গেট গুলির অবস্থা খতিয়ে দেখেন।
জানা গিয়েছে, নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে লেভেল ক্রসিং গেটের পরিস্থিতি রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন সংশ্লিষ্ট স্টেশন মাস্টার। গেটম্যানের সঙ্গে PN-ভিত্তিক যোগাযোগের পাশাপাশি গেটের বুম ও লিভার লকিংয়ের অবস্থাও যাচাই করা যাবে। রয়েছে RKT-ভিত্তিক ফিজিক্যাল অথেনটিকেশন এবং LiDAR প্রযুক্তির মাধ্যমে ট্রেনের আসা ও যাওয়া শনাক্ত করার ব্যবস্থাও।
এদিন পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার গীতিকা পাণ্ডে গেটম্যানের সঙ্গে কথা বলে নিরাপত্তাবিধি, গেট পরিচালনার নিয়ম, জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কে খোঁজ নেন। নির্ধারিত অপারেটিং প্রক্রিয়া মেনে চলা এবং সর্বদা সতর্ক থাকার উপরে জোর দেন তিনি।
এরপর কর্ণসুবর্ণ স্টেশনের ইন্টারলকিং প্যানেলও পরিদর্শন করেন পূর্ব রেলের জিএম। কর্তব্যরত স্টেশন মাস্টারের সঙ্গে কথা বলে সিগন্যালিং প্যানেলের কার্যকারিতা, ট্রেন পরিচালনা এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করেন।
পূর্ব রেলের দাবি, এই প্রযুক্তি প্রচলিত নিরাপত্তা বিধি বা কর্মীদের ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশনের বিকল্প নয়। বরং সেই ব্যবস্থার পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে। এর লক্ষ্য হল, স্টেশন মাস্টার ও গেটম্যানের মধ্যে যোগাযোগ আরও নির্ভরযোগ্য করা এবং ট্রেন চলাচলের সময় পদ্ধতিগত ত্রুটির ঝুঁকি কমানো।