
জলপাইগুড়ি: বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। এবার তাঁর পরিত্যক্ত বাড়িতে আগুন। আর থানায় তা নিয়ে অভিযোগ জানাতে এসে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন রাজগঞ্জের পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্না বর্মন (Swapna Barman)। থানার বাইরে দাঁড়িয়ে তাঁর দাবি, ঘনিষ্ঠরাই বাড়িতে আগুন লাগিয়েছে। তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানালেন। অন্যদিকে, গ্রামবাসীদের নিয়ে এদিন থানায় হাজির হন স্বপ্নার জ্যাঠামশাই শ্যামল বর্মন। তাঁর দাবি, স্বপ্নার দাদারা নিজেরাই আগুন লাগিয়েছে ওই বাড়িতে।
কী বললেন স্বপ্না বর্মন?
গতকাল রাতে স্বপ্না বর্মনের পরিত্যক্ত বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর কার্যত একা স্কুটি চালিয়ে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন স্বপ্না বর্মন। থানা থেকে বেরিয়ে তিনি বলেন, “ভোটে হার-জিত রয়েছে। এটা জীবনের অংশ। আমি খেলাধূলা থেকে আসা মেয়ে। আমি স্পোর্টসম্যান স্পিরিট জানি। সেদিক থেকে রাজনীতি যে এতটা নির্মম, আমার জানা ছিল না। আমাকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হচ্ছে।” তাঁকে নিরাপত্তা দেওয়ার আবেদন জানিয়ে পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী বলেন, “নতুন সরকার নারীদের জন্য খুবই ভাবে। সেদিক থেকে নতুন সরকারকে আবেদন, আমাকে কিছুদিন নিরাপত্তা দেওয়া হোক। আমার দল, কে কী ভাবছেন, সেদিকটা আমি এখন ভাবছি না।”
তাঁর বাড়িতে কে আগুন লাগিয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তরে স্বপ্না বলেন, “কে আগুন লাগিয়েছে, সেটা বলতে পারব না। তবে ঘনিষ্ঠদের মধ্যেই কেউ লাগিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে।” তবে সেই ঘনিষ্ঠ কে, তা নিয়ে মুখ খুললেন না স্বপা বর্মন। তাঁর ও পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে স্বপ্না বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যারা বলছে, তারাই চার তারিখের আগে তৃণমূলের ফ্ল্যাগ বেঁধেছে। চার তারিখে সকালেও যারা আমাকে উইশ করেছে, তারা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় আমার বিরুদ্ধে, দাদাদের বিরুদ্ধে বলছে।”
তিনি আর রাজনীতি করবেন কি না জানতে চাওয়ায় প্রাক্তন এই অ্যাথলিট বলেন, “রাজনীতি করব কি না সেটা সময়ের উপর ছেড়ে দিয়েছি। যেহেতু খেলাধূলার জগত থেকে এসেছি, ফলে লড়াই করতে জানি। আমি লড়াই করে আবার এগোনোর চেষ্টা করব। তবে এরকম রাজনীতি আগে জানলে আসতাম না।” তবে ভবিষ্য়তে কোনও খেলোয়াড়কে রাজনীতির ময়দানে না আসার পরামর্শ দেন তিনি।
কী বলছেন প্রতিবেশীরা?
স্বপ্না বর্মন থানা থেকে বেরিয়ে যেতেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে থানায় আসেন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, “স্বপ্নার দুই দাদা এলাকায় মানুষকে শাসিয়েছেন। অত্যাচার চালিয়েছেন। এখন নিজেরাই আগুন লাগিয়ে মিথ্যে অভিযোগ করছেন। এর সঠিক তদন্ত করতে হবে প্রশাসনকে। না হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামব।” এলাকার মানুষের সঙ্গে থানায় হাজির স্বপ্নার জ্যাঠামশাই। তাঁরও দাবি, স্বপ্না আগুন লাগানো নিয়ে মিথ্যে অভিযোগ করছেন।
পুলিশ সুপার অমরনাথ কে জানিয়েছেন, স্বপ্না বর্মন লিখিত অভিযোগ করেছেন। মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করছে। নিয়ম মেনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তে নেমেছে জলপাইগুড়ি রিজিওনাল ফরেনসিক টিম।
স্বপ্নার বাড়িতে আগুন লাগানোর অভিযোগ নিয়ে তৃণমূল জেলা সভাপতি মহুয়া গোপ বলেন, “স্বপ্না আমাকে ফোন করেছিল। থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা দরকার। যথাযথ তদন্ত করে দোষীদের সামনে আনা হোক।” অন্যদিকে বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামী বলেন, “উনি নির্দিষ্ট কারও নামে কি অভিযোগ করেছেন? প্রশাসন তদন্ত করে দেখুক। আইন আইনের পথে চলুক। আমরা হুমকির রাজনীতি করি না।”