
জলপাইগুড়ি: স্বপ্না বর্মনের পরিত্যক্ত বাড়িতে আগুন। ভাই-বোনের সাংসারিক অশান্তির কারণে নিজেরাই নিজেদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে থাকতে পারে বলে সন্দেহ বিজেপির। ভুয়ো অগ্নিকাণ্ড এই অভিযোগ তুলে উপযুক্ত তদন্তের দাবিতে পুলিশকে ঘিরে বিক্ষোভ গ্রামবাসীদের। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শোরগোল জেলার রাজনৈতিক আঙিনায়।
রাজগঞ্জ বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্না বর্মনের শুক্রবার রাতের পোস্ট থেকেই মূল ঘটনা সামনে আসে। সেখানেই তিনি লেখেন তাঁর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। তবে কে বা কাহারা এই ঘটনায় জড়িত তা নিয়ে স্পষ্ট কিছু লেখেননি। এমনকি এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এই মর্মে থানায় কোনও লিখিত অভিযোগও দায়ের করেননি স্বপ্না।
লিখিত অভিযোগ না করলেও তৃণমূল প্রার্থী সংবাদমাধ্যমে একের পর এক পরস্পর-বিরোধী মন্তব্য করেছেন। একবার তিনি আক্ষেপ করে বলেছেন তার রাজনীতি আসাই ভুল হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি এও দাবি করেছেন তিনি এতদিন যাঁদের নিয়ে ভোট প্রচার করেছেন, ফল বের হওয়ার পর তাঁরাই এখন ঘুরে গিয়েছেন। অন্যদিকে চলে গিয়েছেন। তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণে মারারও হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। যদিও তিনি এও বলছেন কে আগুন লাগিয়েছে তা আমি দেখিনি। তাই সঠিক কিছু বলতে পারছি না। ফলে গোটা ঘটনা নিয়ে যে ধোঁয়াশা ক্রমেই তীব্র হয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এলাকাতেও শুরু হয়েছে জল্পনা।
বিজেপি বিধায়ক দীনেশ সরকারের দাবি স্বপ্নার বাড়িতে ভাই-বোনদের মধ্যে নিত্যদিন ঝগড়া, অশান্তি, মারামারি লেগেই থাকে। ঘরে গেলে দেখা যাবে তাদের বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙা। তাঁর কথায়, ওর ছোট ভাই বাড়িতে ঢোকার পর আগুনের কাণ্ড হয়। ওখানকার লোকই এটা বলছে। আমার মনে হয় না আমাদের দলের কোনও লোক এর সঙ্গে যুক্ত। বাকিটা পুলিশ তদন্ত করে দেখবে। যদি কেউ দোষী থাকে পুলিশ উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের পাতকাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের টিন পাড়ায় স্বপ্না বর্মনের নতুন বাড়ি। সেই বাড়িতে গত কয়েক বছর ধরে স্বপ্না ও তাঁর পরিবার থাকে। আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে স্বপ্নার পুরনো বাড়ি অর্থাৎ ঘোষপাড়ার বাড়িতে। ওই বাড়ি বর্তমানে পরিত্যক্ত।
আগুন লাগার খরব পেয়ে এলাকায় ছুটে যায় কোতোয়ালি থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। পুলিশকে দেখে ঘিরে ধরেন গ্রামবাসীরা। অনেকেই বলতে থাকেন ওরা নিজেরাই এই বাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। এই বাড়ির পাশেই তাদের বাড়ি। আগুন ছড়িয়ে গেলে তাদের বাড়িতে আগুন লাগতো। তাই গ্রামের মানুষ স্বপ্নাদের এখান থেকে সরিয়ে দেওয়ারও দাবি করেন।
পুলিশ সুপার অমরনাথ কে বলেন, “স্বপ্নাদের পুরনো বাড়িতে রান্নাঘরের পাশে কিছু জ্বালানি কাঠ রাখা ছিল। কোনওভাবে তাতে আগুন লেগে যায়। আশেপাশের কিছু জিনিসপত্র পুড়েছে। তবে বাড়ির তেমন কোনও ক্ষতি হয়নি। ওই বাড়িতে স্বপ্না বর্মন থাকেন না। আমরা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি।”
পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ ঘুরিয়ে তৃণমূলকেই খোঁচা দিয়েছেন। বলছেন, “অসৎ সঙ্গে এই অবস্থা হয়। উনি একজন অ্যাথলেটিক্স। তাঁর সম্মানের সঙ্গে থাকা উচিত। যাঁদের সঙ্গে থাকা উচিত নয়, তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন।”