
ধূপগুড়ি: নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন করার কথা জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। কংগ্রেসের (Congress) সঙ্গে মমতা-তৃণমূলের (MAITC) সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। তারই মাঝে দলে দলে কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন তৃণমূলকর্মীরা। শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের তরফে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফুটবল খেলোয়াড় প্রতীক দেওয়া হয়েছে। তাঁর দলের নতুন নাম মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস।
জোড়াফুল প্রতীক ফ্রিজ হয়ে যাওয়ার পরই ধূপগুড়িতে কংগ্রেসে যোগ দিল ৩০টি পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা সবাই তৃণমূলকর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতীক হারানোর পর তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। কংগ্রেসের সঙ্গে মমতা-তৃণমূলের মিশে যাওয়ার জল্পনাও রয়েছে। তারই মধ্যে এই দলবদল।
দেখা গেল, নীচুতলার তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের একাংশ নাম লেখাচ্ছেন কংগ্রেসে। শুক্রবার রাতে ধূপগুড়ি জাতীয় কংগ্রেস কার্যালয়ে প্রায় ৩০টি পরিবার তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসের দলীয় পতাকা হাতে তুলে নেয়। তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন কংগ্রেস টাউন ব্লক সভাপতি হরিশ রায়। উপস্থিত ছিলেন নবিউল ইসলাম, আজিবুল ইসলাম এবং অজয় বসাক।
রাজ্য রাজনীতিতে যখন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক এবং সাংগঠনিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা চলছে, তখনই ধূপগুড়িতে তৃণমূলের নীচুতলার কর্মী-সমর্থকদের কংগ্রেসে যোগদান নতুন করে রাজনৈতিক চর্চার জন্ম দিয়েছে। উপনির্বাচনকে ঘিরে তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত এবং দলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। সেই আবহে ধূপগুড়ির এই যোগদানকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কংগ্রেস নেতৃত্ব।
ধূপগুড়ি ব্লকের গাদং-১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এবং সাকোয়াহারা-২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা থেকে প্রায় ৩০টি পরিবার এদিন কংগ্রেসে যোগদান করে। কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে, দলের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তৃণমূলের নীচুতলার কর্মী-সমর্থকদের একাংশ কংগ্রেসের দিকে এগিয়ে আসছেন। তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়ে কংগ্রেসের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার বার্তা দেওয়া হয়।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তৃণমূলের শীর্ষস্তরে রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে জল্পনা চললেও তার প্রভাব নীচুতলার সংগঠনেও পড়ছে। শুধু উপরতলার নেতাদের দলবদল বা রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন নয়, নীচুতলার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেও দলবদলের ছবি সামনে আসছে। ধূপগুড়িতে প্রায় ৩০টি পরিবারের কংগ্রেসে যোগদানের ঘটনা সেই রাজনৈতিক পরিবর্তনেরই একটি উদাহরণ বলে মনে করছে স্থানীয় কংগ্রেস নেতৃত্ব।
তবে এই যোগদানের প্রভাব আগামিদিনে ধূপগুড়ির রাজনৈতিক সংগঠনে কতটা পড়বে, তা সময়ই বলবে। আপাতত তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগদানের এই ঘটনায় কংগ্রেসের সাংগঠনিক শক্তি বাড়ল বলেই মনে করছে দলীয় নেতৃত্ব।