
মালবাজার: সন্তান জন্মালে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আর লাইনে দাঁড়াতে হবে না। এক মাসের মধ্যেই বাড়িতে পৌঁছবে আধারকার্ড (Aadhaar Card), জন্মের শংসাপত্র ও জাতিগত শংসাপত্র। বাংলায় নেওয়া হল বড় উদ্যোগ। এর আগে এমন কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কেন এমন সিদ্ধান্ত? আসলে জলপাইগুড়ি জেলার মালবাজারের চা বলয়ের পিছিয়ে পড়া বাসিন্দাদের সুবিধার্থে মাল মহকুমা প্রশাসনের (Mal Mahakuma) তরফে রাজ্যে প্রথম পাইলট প্রোজেক্ট চালু হল আজ। এই পাইলট প্রজেক্ট এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘পরিচয়’ । হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরতেই মিলবে জন্ম সার্টিফিকেট, আধার কার্ড ও জাতিগত শংসাপত্র।
আধার কার্ড থেকে জন্মের সার্টিফিকেট, এই সব পেতে খুবই অসুবিধা হয়। বিশেষ করে চা-বাগান এলাকার সাধারণ মানুষকে এই সমস্যা পোহাতে হয়। সেই সমস্যাই অনেকটাই কমাতে উদ্যোগী মালবাজার মহকুমা প্রশাসন। শিশুর জন্মের পর হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার এক মাসের মধ্যেই বাড়িতে পৌঁছে যাবে জন্ম সার্টিফিকেট, আধার কার্ড এবং জাতিগত শংসাপত্র। মালবাজার মহকুমা শাসক উৎকর্ষ খন্ডালের উদ্যোগে শুরু হয়েছে পাইলট প্রজেক্ট ‘পরিচয়’। পশ্চিমবঙ্গে এই ধরনের উদ্যোগ প্রথমবার বলেই দাবি প্রশাসনের।
কী এই প্রকল্প?
প্রতিদিন ৩ ঘণ্টা পোস্ট অফিসের একজন কর্মী মালবাজার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে বসবেন। আধার এনরোলমেন্ট নম্বর তৈরি হওয়ার পর তা পোর্টালে আপডেট করা হবে। সাধারণত ৭ দিনের মধ্যে এই নম্বর তৈরি হয়ে যায়। এরপর সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত বা পুরসভার কাছে পৌঁছে যাবে নোটিফিকেশন। পঞ্চায়েত বা পুরসভার কর্মীরা শিশুর জাতিগত শংসাপত্রের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করতে সরাসরি পরিবারের বাড়িতে যাবেন।
প্রকল্প অনুযায়ী, জন্মের পর হাসপাতালেই জন্ম সার্টিফিকেটের ফর্ম পূরণ করা হবে। আধার এনরোলমেন্ট এবং জাতিগত শংসাপত্রের প্রক্রিয়াও একই ব্যবস্থার মাধ্যমে এগবে।
প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় ২১ দিনের মধ্যেই তিনটি নথি বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। তবে বাড়তি সময় হাতে রেখে সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য তৈরি হয়েছে বিশেষ অ্যাপ্লিকেশন এবং তথ্যভিত্তিক পোর্টাল।
মহকুমা শাসক উৎকর্ষ খন্ডাল বলেন, “গোটা প্রকল্পটি এই মুহূর্তে প্রারম্ভিক জায়গায় রয়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি সমস্ত দফতরকে একসঙ্গে নিয়ে কাজ করতে। সফল হলে কৃতিত্ব সবার।” জলপাইগুড়ির জেলাশাসক অদিতি চৌধুরীও উদ্যোগটির পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, “এই উদ্যোগকে সফল করতেই হবে, জেলা প্রশাসন সব সময় পাশে থাকবে।”
মালবাজারের বিধায়ক শুক্রা মুন্ডা বলেন, “এই উদ্যোগ সফল হলে অনগ্রসর জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষ উপকৃত হবেন। চা-বাগানের হাজির টাকা খরচ করে তাঁদের আর দপ্তরে দফতরে ছুটতে হবে না।”
ইতিমধ্যেই প্রায় ১০ জন নবজাতকের পরিবার এই পরিষেবার সুবিধা পেয়েছে। সঞ্চারিয়া খারিয়া বলেন, “আগে দেখেছি বহুদিন হাসপাতালে আসতে হতো জন্ম সার্টিফিকেটের জন্য। আমাদেরটা বাড়িতে বসেই পেয়ে গেলাম।” সুরবি লোহার জানান, “আমাদের গ্রামের মহিলারা বাচ্চা কোলে নিয়ে ভোর চারটেয় পোস্ট অফিসের সামনে লাইন দিয়েছেন বাচ্চার আধার কার্ডের জন্য। স্যারের জন্য আমাদের কোনও অসুবিধাই হয়নি আধার তৈরি করতে।”