
জলপাইগুড়ি: ‘ক্ষমতায় এলে ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম পে কমিশন লাগু করব’। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের এই মন্তব্যে চাপান উতোর শুরু হয়েছে রাজ্য সরকারের কর্মচারী মহলে। একইসঙ্গে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
‘পরিবর্তন রথযাত্রা’র সূচনা করতে বঙ্গ সফরে এসেছিলেন অমিত শাহ। রায়দিঘির সভামঞ্চ থেকে তিনি ঘোষণা করেন বিজেপিকে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আনলে মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম পে কমিশন লাগু করবে বিজেপি সরকার। রাজ্য সরকারি কর্মীদের মন জয় করতেই শাহের এই ঘোষণা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
শাহের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে বিজেপি প্রভাবিত সংগঠন ‘সরকারি কর্মচারী পরিষদ’। কিন্তু বাম প্রভাবিত রাজ্য কো অর্ডিনেশন কমিটি এবং তৃণমূল প্রভাবিত পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশন এই ঘোষণাকে ললিপপ দেখানো বলে পাল্টা তোপ দেগেছেন।
রাজ্য কো অর্ডিনেশন কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ গুপ্ত চৌধুরী বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে দেখেছি ত্রিপুরাতেও এই জাতীয় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপির ডবল ইঞ্জিনের সরকার। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর তা আদতেও বাস্তবায়িত হয়নি। উলটে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের যে বিধিবদ্ধ পেনশন ব্যবস্থা ছিল, তা বন্ধ করে নয়া পেনশন ব্যাবস্থা চালু করা হয়েছে। ফলে সেই রাজ্যের কর্মীরা সমস্যায় পড়েছেন। পাশাপাশি তিনি আরও প্রশ্ন করেন, সপ্তম পে কমিশন চালু করার আগে কর্মীদের ৪০ শতাংশ মহার্ঘভাতা বকেয়া রয়েছে। তার কী হবে? এছাড়া একটা পে কমিশন চালু করতে গেলে অনেক দিক খতিয়ে দেখার বিষয় রয়েছে, তা মাত্র ৪৫ দিনে সম্ভব কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
তৃণমূল প্রভাবিত ‘পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনে’র জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি নিরুপম মুস্তাফি বলেন, “রাজ্যে মানবিক সরকার রয়েছে। তারা ইতিমধ্যে পে কমিশন ঘোষণা করে দিয়েছে। পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের ক্যাশ লেস হেলথ স্কিম চালু করেছে। একইসঙ্গে বিজেপি শাসিত অন্যান্য রাজ্যে যখন পেনশন ব্যাবস্থা উঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে, ঠিক তখন এই রাজ্যে বিধিবদ্ধ পেনশন ব্যাবস্থা চালু রাখা হয়েছে। একইসাথে সরকারি কর্মচারীদের জন্য আরও অনেক সু ব্যবস্থা চালু আছে। তাই এই রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা অমিত শাহর এই ললিপপ খাবে না।”
অপরদিকে শাহের এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে বিজেপি প্রভাবিত সংগঠন সরকারি কর্মচারী পরিষদ। সংগঠনের জেলা সম্পাদক দেবাশিস সরকার বলেন, “যদি সদিচ্ছা থাকে, তবে ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম পে কমিশন লাগু করা সম্ভব। নইলে ৪৫০ দিনেও তা হবে না।” উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে জলপাইগুড়ির মানুষ দাবি জানাচ্ছিল সার্কিট বেঞ্চের জন্য, কিন্তু তা হচ্ছিল না। মোদী সরকারের সদিচ্ছার ফলে জলপাইগুড়িতে সার্কিট বেঞ্চ উদ্বোধন হয়ে সেখানে বিচার ব্যবস্থা চালু হয়েছে। তাই আমরা আবেদন করছি সকল সরকারি কর্মচারীরা এক ছাতার তলায় আসুন। একসঙ্গে লড়াই করে রাজ্যে বিজেপি সরকার স্থাপন করে আমাদের দাবিদাওয়া পূরণ করি।”