
ধূপগুড়ি: কয়েক কিলোমিটার দূরেই মুখ্যমন্ত্রীর সভা। চারদিকে তুমুল তৎপরতা। কিন্তু তাঁর সভাস্থলের কয়েক কিলোমিটার দূরেই ঘটে গেল মর্মান্তিক ঘটনা। বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু। ঘটনায় তুমুল উত্তেজনা। ধূপগুড়ি জলঢাকা সেতুর কাছে এশিয়ান হাইওয়ে ৪৮ নম্বর সড়ক অবরোধ করে পুলিশকে ঘিরে চলছে বিক্ষোভ। ঘটনাটি ঘটেছে ধূপগুড়ির ময়নাতলি এলাকায়। গুরুতর আহত হয়েছেন শিশুটির বাবাও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়ে পুলিশও। এশিয়ান হাইওয়ে ৪৮ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মাগুমমাড়ি ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ময়নাতলি এলাকা থেকে একটি বেপরোয়া লরি এশিয়ান হাইওয়ে ৪৮ নম্বর সড়ক পারাপার করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা মারে বাবা-মেয়েকে। মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিতে যাচ্ছিলেন তাঁর বাবা। গাড়ির ধাক্কায় ছিটকে পড়ে শিশুটি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। গুরুতর জখম অবস্থায় বাবাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ, প্রতিদিনই এই রাস্তায় শয়ে শয়ে ডাম্পার ও লরি বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। অতি ভারী যানবাহনের দৌরাত্ম্যে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে, অথচ প্রশাসনের তরফে কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এদিন দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ধূপগুড়ি থেকে জলপাইগুড়ি সংযোগকারী এশিয়ান হাইওয়ে ৪৮ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। যার ফলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। তবে ক্ষুব্ধ জনতা ধূপগুড়ি থানার আইসিকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখায়।
অভিযোগ উঠেছে, দুর্ঘটনার আগে দ্রুতগতির ওই লরিটিকে থামানোর চেষ্টা করেছিলেন এলাকাবাসী, কিন্তু গাড়িটি পালিয়ে যায়। পরে জলঢাকা ব্রিজের কাছে ট্রাফিক পুলিশকে জানানো হলেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। এর জেরেই ক্ষোভ আরও বাড়ে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, মুখ্যমন্ত্রীর জেলা সফরের দিনেই সভাস্থল থেকে মাত্র প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে এই দুর্ঘটনা ঘটায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে বেপরোয়া ডাম্পার ও ওভারলোডিং গাড়ির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে, না হলে আন্দোলন আরও জোরদার হবে। উল্লেখ্য, এই বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার বিভিন্ন জনসভায় সোচ্চার হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেও। ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যদিও পুলিশ আধিকারিকরা এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি।