
জলপাইগুড়ি: রাজগঞ্জ আসনে তাঁকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। কিন্তু, তিনি ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় এখনও কাটল না। শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে রাজগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্না বর্মণের আবেদনের শুনানি হয়। এদিন শুনানির পরও অস্বস্তি কাটল না স্বপ্নার। রেলের তদন্ত কমিটির মুখোমুখি হতেই হবে তাঁকে।
স্বপ্না বর্মনের ভুল স্বীকার করে দেওয়া চিঠি পেয়েছে রেল দফতর। এদিন রেলের পক্ষ থেকে আদালতে জানানো হয়েছে, বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। সেই তদন্ত কমিটির সম্মুখীন হতে হবে স্বপ্না বর্মণকে। যদিও রেল দফতরকে এদিন বিচারপতি গৌরাঙ্গ কান্ত নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী সোমবারের মধ্যে স্বপ্না বর্মণকে রেল দফতর থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি আদালতকে জানাতে হবে।
এদিন শুনানিতে রেলের তরফে ভার্চুয়ালি ছিলেন ডেপুটি সলিসিটর জেনারেল সুদীপ্ত মজুমদার। এদিন শুনানি শেষে মামলা নিয়ে বিশেষ কিছু বলতে চাননি প্রাক্তন অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মণ। তিনি বলেন, “এটা এখনও বিচারাধীন। আগামীতে কী হবে, আমি জানিয়ে দেব। এর বেশি এখনই কিছু বলতে পারছি না।”
প্রসঙ্গত, রেলে চাকরিরত অবস্থায় গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তৃণমূলে যোগদান করেন স্বপ্না। এরপর শাসকদল তাঁকে জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জ বিধানসভা আসনে প্রার্থী করে। চাকরি থেকে ইস্তফা না দিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ তুলে গত ৯ মার্চ তদন্ত শুরু করে রেল। আর গত ১৬ মার্চ চাকরি থেকে ইস্তফা দেন স্বপ্না। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলায় রেল তাঁর ইস্তফাপত্র গ্রহণ করেনি। তাঁর ইস্তফাপত্র যাতে গ্রহণ করা হয়, সেই আবেদন জানিয়েই স্বপ্না কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছেন। আগামী ৬ এপ্রিল প্রথম দফার নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ। এখন দেখার, স্বপ্নার ইস্তফাপত্র গ্রহণ নিয়ে জটিলতা কবে কাটে।