
জলপাইগুড়ি: ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকেই জেলায় জেলায় শাসকদলের অন্দরের কোন্দল একেবারে প্রকাশ্যে চলে এসেছে। এ বার জলপাইগুড়িতে কার্যত ‘বোমা’ ফাটালেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) রাজ্য কমিটির সদস্য দেবজিৎ সরকার ওরফে ডিস্কো। টিভি৯ বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দলের জেলা নেতৃত্বের একাংশ এবং শীর্ষ স্তরের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে সরব হলেন তিনি। বালি পাচার থেকে শুরু করে নিয়োগ দুর্নীতি, এমনকি শুভেন্দুর আপ্ত সহায়ক খুনের ঘটনায় তাঁরই দলের জড়িত থাকার সম্ভাবনা, বাদ গেল না কিছুই।
রাজ্যে পালাবদল হতেই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের এই নেতার গলায় ধরা পড়েছে তীব্র হতাশা ও ক্ষোভ। তাঁর দাবি, দলের অন্দরে দুর্নীতি নিয়ে বলতে গিয়ে নেতাদের রোষানলেও পড়তে হয়েছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেবজিতের আরও দাবি, TMCP-র জেলা সভাপতি পদ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে প্রতীক জৈন তাঁকে ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে ডেকে পাঠান। ১৪ লক্ষ টাকা দাবিও করেন। এখানেই শেষ নয়। তাঁর অভিযোগ, খাদ্য দফতর এবং পুলিশ, দুটি চাকরির পরীক্ষাতেই তিনি পাশ করেছিলেন। কিন্তু মোটা টাকা ঘুষ দিতে না পারায় তাঁকে নিয়োগ করা হয়নি।
জেলা সভাপতি মহুয়া গোপ এবং জেলা পরিষদের সভাধিপতি কৃষ্ণা রায় বর্মনের বিরুদ্ধেও সুর চড়িয়েছেন তিনি। কর্মীরা যখন আক্রান্ত হচ্ছেন, তখন জেলা সভাপতি মহুয়া গোপ গোয়ায় ছুটি কাটাচ্ছেন বলে খোঁচাও দিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, এরা ছাড়াও একাধিক নেতা বেআইনি বালি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তাঁর দাবি, প্রতিবাদ করায় তাঁকে মিথ্যা গাঁজা মামলায় ফাঁসানোর হুমকিও দেওয়া হয়েছে। পৌরসভার কাজ নিয়েও সুর চড়িয়েছেন দেবজিৎ। একইসঙ্গে বিজেপর হয়ে ঝোল টেনে তিনি এও বলছেন, ‘তৃণমূলের নেতারা আমাদের ফেলে পালালেও, এখন বিজেপি নেতারাই আমাদের খোঁজ নিচ্ছেন।’ তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য কমিটির সদস্যের এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই জেলার রাজনৈতিক মহলে চলছে জোর চর্চা। জেলা নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে বালি পাচার, তোলাবাজি এবং নিয়োগ দুর্নীতির যে খতিয়ান দেবজিৎ সরকার তুলে ধরেছেন, তা এখন তৃণমূলের কাটা ঘায়ে নুনের ছিটের সামিল বলেই মনে করছেন অনেকে।