Binpur: মেলায় বিক্রি হওয়া ৭০০ কুইন্টাল জিলিপির হল ‘স্বাস্থ্য পরীক্ষা’

এক মাস রেখে দিলেও নষ্ট হয় না। সাধারণ জিলিপি এনে পরদিন খেলেই নরম হয়ে যায়। কিন্তু হাড়দার জিলিপির রহস্য একেবারেই আলাদা। বিশেষ অনুপাতে বিউলি ডাল ও আতপ চালের গুঁড়োর মিশ্রণে তৈরি হয় এই মুচমুচে খাস্তা জিলিপি। বাড়িতে সাধারণ তাপমাত্রায় রেখে দিলে প্রায় এক মাস পরেও এর মচমচে ভাব ও স্বাদ অক্ষুণ্ণ থাকে, বিন্দুমাত্র নষ্ট হয় না!

Binpur: মেলায় বিক্রি হওয়া ৭০০ কুইন্টাল জিলিপির হল স্বাস্থ্য পরীক্ষা
জিলিপিImage Credit source: Tv9 Bangla

| Edited By: অবন্তিকা প্রামাণিক

Oct 29, 2026 | 8:47 AM

বিনপুর: গরম তেলে পাক খাচ্ছে আড়াই প্যাঁচের জিলিপি। আর রসে টুপটুপে সেই স্বাদের টানেই ভেঙে পড়ছে আস্ত জঙ্গলমহল। মেলা মানেই যেখানে খাবারের দোকানের লম্বা সারি, সেখানে এই মেলায় জিলিপির দোকান মাত্র একটাই। আর সেই একমাত্র দোকানেই ১৫ দিনে বিক্রি ৭০০ থেকে ৮০০ কুইন্টাল। ছাড়িয়ে যায়। চোখ কপালে তোলার মতো ভিড়, ঘণ্টার পর লাইন দিয়ে কিনতে হয় জিলিপি।

এমনই এক ঐতিহাসিক ও অদ্ভুত মেলা বসে ঝাড়গ্রামের বিনপুরের প্রত্যন্ত হাড়দা গ্রামে। লক্ষ্মীপুজো উপলক্ষে বসা এই মেলা স্থানীয়দের কাছে পরিচিত স্রেফ ‘জিলিপির মেলা’ নামেই। তবে এবার উৎসবের আনন্দের মাঝেই সেখানে হাজির খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা। লাখ-লাখ মানুষের মুখে যে জিলিপি উঠছে, তার মান কেমন? হল কড়া ‘স্বাস্থ্য পরীক্ষা’!

পরীক্ষায় সসম্মানে পাশ ‘হাড়দার জিলিপি’

এত বিপুল পরিমাণ মিষ্টি তৈরি হচ্ছে, সেখানে গুণগত মান ঠিক আছে তো? সেই নজরদারিতেই মেলা প্রাঙ্গণে আচমকা হানা দেন খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা। তেল থেকে শুরু করে উপকরণ—সব কিছু খতিয়ে দেখে অবশেষে মেলে স্বস্তির খবর। পরীক্ষায় সসম্মানে উত্তীর্ণ ঐতিহ্যবাহী এই মিষ্টি। তবে স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার খাতিরে কারিগরদের পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত কিছু কড়া নির্দেশ দিয়ে গিয়েছেন আধিকারিকরা।

কীভাবে তৈরি হয় এই জিলিপি?

এক মাস রেখে দিলেও নষ্ট হয় না। সাধারণ জিলিপি এনে পরদিন খেলেই নরম হয়ে যায়। কিন্তু হাড়দার জিলিপির রহস্য একেবারেই আলাদা। বিশেষ অনুপাতে বিউলি ডাল ও আতপ চালের গুঁড়োর মিশ্রণে তৈরি হয় এই মুচমুচে খাস্তা জিলিপি। বাড়িতে সাধারণ তাপমাত্রায় রেখে দিলে প্রায় এক মাস পরেও এর মচমচে ভাব ও স্বাদ অক্ষুণ্ণ থাকে, বিন্দুমাত্র নষ্ট হয় না!

গোটা মেলায় জিলিপির দোকান থাকবে একটাই, এই শর্ত বহু পুরনো। সাহা ও মণ্ডল পরিবারের সদস্যদের মধ্যে রীতিমতো নিলাম ডেকে বরাদ্দ হয় দোকান। এবার সর্বোচ্চ ৩ লক্ষ ৯১ হাজার টাকা দর হাঁকিয়ে সেই স্বত্ব পেয়েছেন সিন্টু সাহা। তবে লাখ টাকার নিলাম হলেও বিক্রেতা কিন্তু ইচ্ছেমতো দাম হাঁকাতে পারেন না। কমিটিই বেঁধে দেয় দর। বর্তমান বাজারে জিলিপির কেজি যেখানে ১৪০ টাকার আশপাশে, সেখানে হাড়দার মেলায় মিলছে মাত্র ১১০ টাকা কেজিতে। স্বাদ, মুচমুচে স্থায়িত্ব আর পকেট-ফ্রেন্ডলি দাম—সব মিলিয়েই ঝাড়গ্রাম ছাপিয়ে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর এমনকি ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডের মিষ্টিপ্রেমীদের ডেস্টিনেশন এখন বিনপুরের হাড়দা গ্রাম।

Loading...
Unable to load recommendations.
Follow Us