
মালদহ: নম্বর বাড়িয়ে চাকরি পাওয়ার অভিযোগ আগেই উঠেছে। এবার আরও বিপাকে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরের বিডিও শানু বক্সি। তাঁর বিরুদ্ধে বাংলাদেশি পাচারকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ তুলে সরব হল বিজেপি মালদহ জেলা নেতৃত্ব। অভিযোগ, রাষ্ট্রবিরোধী কয়েকজনের সঙ্গে আঁতাত করে প্রচুর সম্পত্তির মালিক হয়েছেন হরিশ্চন্দ্রপুরপুরের বিডিও। ক্ষমতার ব্যবহার করে মোটা টাকা আত্মসাৎ, অবৈধভাবে জমি সম্পত্তির মালিক হয়েছেন তিনি। শানু বক্সির বিরুদ্ধে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি লিখতে চলেছে মালদহ জেলা বিজেপি নেতৃত্ব।
শানু বক্সি একসময় ফলতার বিডিও ছিলেন। তৃণমূলের হয়ে কাজ করতেন বলে আগেই অভিযোগ উঠেছে।নম্বর বাড়িয়ে কীভাবে তাঁকে বিডিও করা হল, তা নিয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে। এদিকে নতুন করে শানু বক্সির বিপুল সম্পত্তির হদিস নিয়েও শুরু হয়েছে বিতর্ক। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস (ববি) একাধিক নথি তুলে ধরে দাবি করেছেন, জলপাইগুড়িতে সরকারকে ভুল তথ্য দিয়ে জমি কিনেছেন শানু। সরকারকে তিনি জানিয়েছিলেন, ৭.৪৫ কাঠা জমি কিনবেন। রেজিস্ট্রিতে দেখা যাচ্ছে, কেনা হয়েছে ১৪.৫৭ কাঠা জমি। জমির দামেও হেরফেরের অভিযোগ উঠেছে।
শানু বক্সিকে নিয়ে কী বলছে মালদহের বিজেপি নেতৃত্ব?
শানু বক্সিকে নিয়ে মালদহ জেলা বিজেপির সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “উনি সাদা খাতার বিডিও। তা আমাদের মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্য সভাপতি বলে দিয়েছেন। পাবলিশ সার্ভিস কমিশনের মতো জায়গাতে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে নিয়োগ হয়েছে। এবং তারা বিডিও, ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পর্যন্ত হয়েছে। বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনেও এই ধরনের দুর্দিন আসেনি।”
বাংলাদেশি পাচারকারীদের সঙ্গে শানু বক্সির যোগাযোগ রয়েছে বলে অভিযোগ করে অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “যারা সিদ্ধান্ত নেবে, তারা সাদা খাতা দিয়ে চাকরি পেয়েছে। তারা সম্পত্তি করতেই এসেছে। আমরা চাইছি, যারা শূন্য খাতা দিয়ে চাকরি পেয়েছে, তাদের অবিলম্বে চিহ্নিত করা হোক। এবং জেলে পাঠানো হোক। আজীবন যাতে জেলে থাকে, তার ব্যবস্থা করা হোক। শানু বক্সির নামে আমরাও চিঠি লিখে মুখ্যমন্ত্রীকে জানাব।”