
মালদহ: কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যার স্বামীর উপর নৃশংস হামলা, অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। লোহার রড দিয়ে হামলার অভিযোগ। মাথায়-চোখে গুরুতর চোট লেগেছে। মালদহের চাঁচল থানার শাহবাজপুর গ্রামের ঘটনা। অভিযোগ, চাঁচল ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যা নাশেদা খাতুনের স্বামী তথা কংগ্রেস নেতা মর্তুজ আলমকে বাড়ি থেকে বের করে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ভর্তি করা হয়েছে চাঁচল সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে।
আহত নেতার স্ত্রী নাশেদা খাতুনের অভিযোগ, এর আগেও তৃণমূলের লোক তাঁর স্বামীকে শাসিয়েছিলেন। এলাকার তৃণমূল কর্মী রাজেশ ও মিরাজরা সোমবার রাতে বাড়িতে ঢুকে তাঁর স্বামীকে টেনে বাইরে বের করে বেধড়ক মারধর করেন বলে অভিযোগ। লোহার রড দিয়ে মেরে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। ক’দিন ধরেই এলাকায় কংগ্রেস, তৃণমূলের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে যান জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক আনজারুল হক এবং চাঁচল বিধানসভার কংগ্রেস প্রার্থী আসিফ মেহেবুব-সহ দলীয় নেতৃত্ব।
কংগ্রেসের অভিযোগ, তৃণমূলের ‘গুন্ডাবাহিনী’ পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি তুলেছে তারা। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। মালদা জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হোসেনের দাবি, এটি কংগ্রেসের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল। তৃণমূলের কোনও যোগ নেই এই ঘটনায়। আহতের স্ত্রী নাশেদা খাতুন বলেন, “বাড়ির পাশে ঝামেলা করছিল অনেকক্ষণ। গালাগালি দিচ্ছিল। আজকে খুন করবে বলেই হুমকি দিচ্ছিল রাজেশ, রাজেশের বাবা। ওরা সবাই তৃণমূলের। ওদের কে বলেছে নাকি, ওদের নামে থানায় ডায়েরি হয়েছে। তাতেই আক্রোশ। কিন্তু আমরা কোনও ডায়েরি করেনি।”
কংগ্রেস প্রার্থী মেহবুব প্রার্থী বলেন, “ওর ওপর হামলা হয়েছে। পুরনো একটা ঘটনায় বিচার বসেছিল। সেখানেই ঝামেলা হচ্ছিল। যারা অভিযুক্ত তারা তৃণমূল করে, তৃণমূলের সাহসেই এরকম করেছে। এলাকায় বিভিন্ন অসৎ কাজের সঙ্গে জড়িত থাকে।”
জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হোসেন বলেন, “কংগ্রেসের নিজেদের মধ্যে ঝামেলা চলছে। তৃণমূলের কোনও কর্মীর সঙ্গে আদৌ এরকম হয়েছে কিনা, এখনও ঠিক বলতে পারব না। তবে যেটা হয়েছে খারাপ হয়েছে। আমরাও দেখছি। আমরা কখনই চাই না, ভোটের আগে এই ধরনের হিংসার ঘটনা ঘটুক।”