
মালদহ: পরনে জিন্স, শার্ট! পায়ে স্নিকার্স। মহিলার সারা গায়ে কাদা মাখা। গ্রামবাসীরা তাঁকে ঘিরে ধরে। বাঁশ-লাঠি নিয়ে চলছে একের পর এক হামলা! চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে ইঞ্জিনিয়ারের মৃত্যুর রেশ এখনও কাটেনি, তার মধ্যেই ছেলে ধরা সন্দেহে এক মহিলাকে গণপিটুনির অভিযোগ। বাঁশ, লাঠি, লোহার রড দিয়ে মারধরের অভিযোগ। এবার ঘটনাস্থল মালদহ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। কিন্তু পুলিশের সামনেও উত্তেজিত জনতা মারধর করা শুরু করে। ঘটনার মুহূর্তের ভিডিয়ো সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শোরগোল তৈরি হয়েছে। দোলের রাতে এই ঘটনা ঘটে মালদহের গাজোলের পান্ডুয়ায়। আক্রান্তকে উদ্ধার করে পুলিশ গাজোল স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছে। গাজোল স্টেট জেনারেল হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে।
যদিও পুলিশের সামনে আক্রান্ত মহিলা দাবি করেছেন, তিনি হাওড়ায় থাকেন। পান্ডুয়ায় বেড়াতে যান। যদিও গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এলাকার একটি শিশুকে নিয়ে পালানোর ছক ছিল ওই মহিলার। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে গাজোল থানার পুলিশ।
কিছুদিন আগেই খড়গপুর জাতীয় সড়কের পাশে একটি কারখানায় কর্মরত মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার সৌম্যদীপ চন্দকে কেশিয়াড়ি ব্লকের গিলেগেড়িয়া এলাকায় ‘চোর’ সন্দেহে গণপিটুনি দেওয়া হয়। তিনি কারখানায় নাইট ডিউটিতে যাওয়ার পথেই হামলার শিকার হন। ১০ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে ভুবনেশ্বরের একটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পুরুলিয়া এবং পার্শ্ববর্তী ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন জেলায় ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনির ঘটনা বাড়ছে বলেও এই ঘটনার পর পুলিশ সূত্রে খবর মেলে। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করে পুলিশ। তার মধ্যে এইভাবে এক মহিলার ওপর হামলার ওপর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে। পুলিশ ওই মহিলার দেওয়া ঠিকানা অনুযায়ী, তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।