
মালদহ: রাস্তার পাশে ফুলঝুরি জ্বালানোর সময় ফুলকি পড়েছিল নাবালিকার গায়ে। তাকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষ। লাঠি, বাঁশ, লোহার রড নিয়ে সংঘর্ষে জড়াল দুই পক্ষ। তখনই তরোয়াল দিয়ে কুপিয়ে এক ব্যক্তিকে খুনের অভিযোগ উঠল। আর এই সংঘর্ষে নাম জড়াল স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের। এক তৃণমূল কর্মী এবং স্থানীয় তৃণমূল নেতার উস্কানিতে এই খুন হয়েছে বলে অভিযোগ মৃতের পরিবারের। থানায় অভিযোগ দায়ের করে মৃতের পরিবার। গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্ত তৃণমূল কর্মীকে। ঘটনাটি ঘটেছে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর ২ ব্লকের সুলতাননগর গ্রাম পঞ্চায়েতের সাইরা গ্রামে।
মৃত ব্যক্তির নাম শাহজাহান মিঞা। তাঁর বাড়ি সাইরা গ্রামে। তিনি পেশায় একজন ফেরিওয়ালা ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধেয় শাহজাহান মিঞার সাত বছরের এক ছেলে রাস্তার ধারে ফুলঝুরি জ্বালাচ্ছিল। অভিযোগ, তার হাতে থাকা জ্বলন্ত আতশবাজির ফুলকি পাশ দিয়ে যাওয়া তফাজুল মিঞার বাড়ির এক নাবালিকার গায়ে পড়ে। এই ঘটনাকে ঘিরে দুই পরিবারের মধ্যে প্রথমে তর্কাতর্কি শুরু হয়। পরে দু’পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগ, সংঘর্ষ চলাকালীন স্থানীয় তৃণমূল নেতা আহমেদ মিঞা ওরফে ভোলা এবং আর এক তৃণমূল কর্মীর উস্কানিতে শাহজাহানকে মাটিতে ফেলে ধারাল তরোয়াল দিয়ে কোপাতে থাকে অভিযুক্ত রাজীব মিঞা ও তফাজুল মিঞা-সহ তাঁদের পরিবারের লোকেরা। ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শাহজাহানের পরিবারের লোকেরা তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক আশঙ্কাজনক অবস্থায় মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। মালদহ মেডিক্যালে নিয়ে যাওয়ার পথে রাস্তাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃতের স্ত্রী আনবরি বিবি বলেন, “দু’পক্ষের ঝামেলা মিটে যাওয়ার আমাদের ভাগ্নি রাস্তা দিয়ে আসার সময় তাকে ধরে মারতে থাকে ওরা। তখন আমার দেওর ছাড়াতে যায়। তাকেও মারে। তারপর আমার স্বামী গেলে তরোয়াল দিয়ে কোপ মারে। সেইসময় ঘটনাস্থলে তৃণমূল নেতা ছিলেন।” তৃণমূল নেতা উস্কানি দিচ্ছিলেন বলে তাঁর অভিযোগ।
অন্যদিকে, অভিযোগ খারিজ করে তৃণমূল নেতা তথা স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যর স্বামী আহমেদ মিঞা বলেন, “আমি আধ ঘণ্টা পরে পৌঁছেছি। আমি যখন যাই, তখন সংঘর্ষ থেমে গিয়েছে। তার আগেই ওই ব্যক্তিকে মারা হয়েছে। আর যাতে সংঘর্ষ না বাড়ে, সেজন্য রাতেই আমি পুলিশ ডাকি।” এদিনও এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। মৃতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে এক তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগপত্রে আহমেদ মিঞারও নাম রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।