AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Malda: চাকরির আশায় সরকারি প্রকল্পে জমি দিয়েছিলেন কিন্তু কাজ পেলেন TMC নেতা! প্রতারণার নয়া অভিযোগ

সাহেব বাস্কে তার পরিবারকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে থাকেন। তার দশ কাটা জমি রয়েছে।  ২০২৩ সালে তার জমিতে পিএইচি জলের পাম্প বসাবে বলে স্থানীয় তৃণমূল নেতা কর্মীরা তাঁদের বোঝায় প্রতিশ্রুতি দেয় সেই জমি দিলে তাঁদের পরিবারের দুজনের চাকরি মিলবে। চাষের জমি গেলেও রোজগার অন্ন সংস্থানের অভাব হবে না। সেই প্রতিশ্রুতি মতো তাঁরা ট্যাঙ্কি বসানোর জন্যে একমাত্র সম্বল ১০ কাঠা জমি দান করেন। ট্যাঙ্কি বসানোও হয়ে যায়।

Malda: চাকরির আশায় সরকারি প্রকল্পে জমি দিয়েছিলেন কিন্তু কাজ পেলেন TMC নেতা! প্রতারণার নয়া অভিযোগ
প্রতারিত পরিবারImage Credit: TV9 Bangla
| Edited By: | Updated on: Mar 08, 2026 | 5:02 PM
Share

মালদহ: প্রতিশ্রুতি ছিল জমি দিলে মিলবে দুজনের চাকরি, কিন্তু আদিবাসী দম্পতি জমিও হারালেন, মিলল না চাকরি,চাকরি মিলল তৃণমূল কর্মীর। অভিযোগ ঘিরে শোরগোল মালদহে।  শনিবারই এই রাজ্যে আদিবাসীদের বঞ্চনা প্রতারণা নিয়ে সরব হয়েছেন রাষ্ট্রপতি। আর সেই বঞ্চনা আর প্রতারণার জ্বলন্ত উদাহরণ সামনে এল মালদহে। মালদহের এক আদিবাসী দম্পতি নিজেদের একমাত্র সম্বল ১০ কাঠা চাষের জমি তৃণমূলের নেতাদের প্রতিশ্রুতিতে দিয়েছিলেন পিএইচই-কে জলের ট্যাঙ্ক বসানোর জন্যে, পরিবর্তে তাঁদের চাকরি দেওয়া হবে। কিন্তু সেই জমি অধিগ্রহণ করে জলের ট্যাঙ্কি বসানো হলেও চাকরি দেওয়া দেওয়া হয়েছে কোনও এক তৃণমূল কর্মীকে। বঞ্চনার শিকার সেই দম্পতি।

এবার তাঁদের অবস্থা, জমিও হারালেন, চাকরিও মিলল না। এই নিয়ে জেলা পরিষদ, জেলা প্রশাসন সর্বত্র অভিযোগ জানিয়েও বার বার দরবার করা হলেও কোনও লাভ হয় নি। অসহায় সেই দম্পতি এখন বলছেন, খাবো কি? আমরা কি রাস্তায় বাটি নিয়ে বসব? ঘটনা মালদহের হবিবপুর ব্লকের কানতুরকা গ্রাম পঞ্চায়েতের রাঘবপুর গুজিয়া গ্রামের।

সাহেব বাস্কে তার পরিবারকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে থাকেন। তার দশ কাটা জমি রয়েছে।  ২০২৩ সালে তার জমিতে পিএইচি জলের পাম্প বসাবে বলে স্থানীয় তৃণমূল নেতা কর্মীরা তাঁদের বোঝায় প্রতিশ্রুতি দেয় সেই জমি দিলে তাঁদের পরিবারের দুজনের চাকরি মিলবে। চাষের জমি গেলেও রোজগার অন্ন সংস্থানের অভাব হবে না। সেই প্রতিশ্রুতি মতো তাঁরা ট্যাঙ্কি বসানোর জন্যে একমাত্র সম্বল ১০ কাঠা জমি দান করেন। ট্যাঙ্কি বসানোও হয়ে যায়। চাকরি দেওয়ার নাম করে তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়। পরে তাঁরা জানতে পারেন , তাঁদের না দিয়ে তৃণমূলের এক সক্রিয় কর্মীকে সেই চাকরি দেওয়া হয়েছে। অথচ তিন বছর ধরে তাঁরা মালদা জেলা পরিষদ, গ্রাম পঞ্চায়েত, জেলা প্রশাসনসহ সর্বত্র দরজায় দরজায় ঘুরে বেরিয়েছেন।

প্রতারিত সোনালি হাঁসদা বলেন, “আমাদের কাছে ২০২৩ সালে জায়গা চেয়েছিলেন। জায়গা ছেড়েছি, সেটা আমাদের চাষের জায়গা ছিল। তৃণমূলের নেতারা এসে আমাদের ভুল বুঝিয়েছিলেন, বলেছিলেন, জায়গা ছেড়ে দেন, চাকরি দেব। ট্যাঙ্কির কাজ শেষ হয়ে গিয়েছে। আমাদের এখনও পর্যন্ত কাজ দেয়নি। আমি রাজিনা মুর্মুর কাছে গিয়েছিলাম, উনি বলেছিলেন ডকুমেন্টস নিয়ে আসতে, আমাদের চাকরি দেবে। ১৫ দিন সময় চেয়েছিলেন।” কিন্তু অভিযোগ, প্রায় এক মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও যখন তাঁদের ডাকা হয়নি, তাঁরা ফের যান। তখন তাঁদের জানানো হয়, তাঁদের জায়গায় কাজ পেয়ে গিয়েছেন অন্য তৃণমূল নেতা।

এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। কিন্তু অসহায় ওই আদিবাসী পরিবারের এখন অন্ন সংস্থানের উপায় কী হবে তার উত্তর কারো কাছেই মেলেনি।  হবিবপুরের বিজেপি বিধায়ক জুয়েল মুর্মু বলেন, “গ্রামের সহজ সরল মানুষ। তাঁকে প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। তিনি জায়গাটা দিয়েছিলেন কর্মসংস্থান হবে বলে। প্রতারিতরা তো বিভিন্ন দফতরে ঘুরেছেন, কিন্তু কোথাও চাকরি মেলেনি।”

এ প্রসঙ্গ মালদহ জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি এটিএম রফিকুল হোসন বলেন, “পিএইচই-র কাজে নিয়োগ নিয়ে একটা সমস্যার কথা শুনেছি। এটাতে তৃণমূলের কেউ যুক্ত থাকার কথা নয়, কারণ এটা পুরোপুরিই অফিসিয়ালরা দেখে। যদি কোনও সমস্যা থাকে, দফতরে অভিযোগ জানাতে হবে। কেউ জড়িত থাকলে, অবশ্যই দেখা হবে।”

Follow Us