
মালদহ : মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টারের সামনে রহস্যময় ড্রোনকে কেন্দ্র করে রাজ্য-রাজনীতিতে উত্তেজনা তুঙ্গে। ভোটের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠছে। এবার ড্রোন ওড়ানোর ঘটনায় সামনে এল ‘বিহার যোগ’। ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে তিন যুবককে। মমতার সভায় এসেছিলেন তাঁরা। এর পিছনে বড় কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের প্রত্যেকের বাড়ি বিহারের কাটিহার জেলায়। ধৃতেরা হলেন অঙ্কিত কুমার পাসোয়ান, শ্রীকান্ত মণ্ডল ও নুর আক্তার। গতকাল হরিশচন্দ্রপুরে তৃণমূল প্রার্থী মতিউর রহমানের সভা ছিল। তাঁর সমর্থনে প্রচার করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সভা থেকে বেরোনোর পরই হঠাৎ বিপত্তি। হেলিকপ্টারের সামনে ড্রোন উড়তে দেখা যায়। ড্রোন দেখে হঠাৎ থমকে যান মমতা। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই সভাতেই উপস্থিত ছিলেন ধৃত তিন যুবক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশের পরই তৎপর হয় পুলিশ। সভার ভিড়ের মধ্য থেকে ওই তিন যুবককে ড্রোন-সহ আটক করা হয়। আটক তিনজনকে প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারপর গ্রেফতার করে পুলিশ।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় ড্রোন নিয়ে তাঁরা কী করছিলেন? ড্রোন ওড়ানোর পিছনে তাঁদের কী উদ্দেশ্য ছিল? শুধু তাই নয় কড়া নিরাপত্তা এড়িয়ে কার অনুমতিতে ড্রোন ওড়ালেন তিন যুবক, সেই বিষয়ে খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নাশকতার ছক ছিল কিনা তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
গতকাল কী ঘটেছিল?
শনিবার মালতীপুরের সভা সেরে গাজোলের দিকে যাচ্ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হেলিকপ্টারে উঠতে যাচ্ছেন, ঠিক সেইসময় আচমকাই তাঁর মাথার উপর দিয়ে ড্রোন উড়ে যায়। এই দৃশ্য দেখে দাঁড়িয়ে পড়েন মমতা। হেলিকপ্টারের সিঁড়িতে উঠে, হাতে মাইক নিয়ে বলেন, ‘কারা করছে এসব?’ পুলিশকে নজর রাখার নির্দেশ দেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২৬ মার্চ ও ১ এপ্রিল পরপর দুবার বিপর্যয়ের মুখে পড়ে মুখ্যমন্ত্রীর বিমান। তারপরই তাঁর হেলিকপ্টারের সামনে হঠাৎ ড্রোনের আবির্ভাব। এই বিষয়ে তৃণমূল নেতারা আশঙ্কার প্রকাশ করেছেন এমন কিছু করা হচ্ছে, যাতে নেত্রী প্রাণসংশয় হতে পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে বিভিন্ন সভা থেকে দাবি করেছেন, তাঁকে খুনের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।