
মুর্শিদাবাদ: সংসারের আর্থিক অবস্থা ভাল নয়। অভাবের কারণে বেশি দূর পড়াশোনা হয়নি ছেলের। অল্প বয়েসেই কাপড়ের দোকানে কাজে লেগে গিয়েছে। পরিবারের হাল ধরতে শেষে মা নেমে পড়েছেন মাঠে। টোটো চালিয়ে টানছেন সংসারের ঘানি। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে সেই মহিলাকেই বিচারকের আসনে বসিয়ে সম্মানিত করল লোক আদালত।
কথা হচ্ছে বহরমপুরের কান্তনগর এলাকায় বাসিন্দা রাধারাণী দাসকে নিয়ে। প্রায় পাঁচ বছর ধরে এলাকায় টোটো চালিয়ে টানছেন সংসারের ঘানি। তাঁকেই শনিবার আনা হল বহরমপুর জেলা আদালতে আইনি পরিষেবার অফিসে। সেখানেই বসেছিল জাতীয় লোক আদালতের আসর। মুর্শিদাবাদ জেলা আইনি পরিষেবা বিভাগের পক্ষ থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। একেবারে বিচারকের আসনে বসিয়ে বিশেষ সম্মান দেওয়া হয় রাধারানিকে।
সম্মানিত হয়ে উচ্ছ্বসিত রাধারানিও। বলছেন, “খুবই ভাল লাগছে। জীবনে তো প্রথম এটা। তাই ভাবছি কী করা যায়। আমি তো এমনিতে টোটো চালাই। বাড়ির অবস্থা তো খুবই খারাপ ছিল। সে কারণেই হাল ধরতে হয়েছে। ৫ বছর হল এই কাজে আছি। টোটো চালানোর পর থেকে আর্থিক অবস্থা একটু ফিরেছে। আমার একটা ছেলে আছে। পড়াশোনা বেশি করতে পারেনি। কাপড়ের দোকানে কাজ করে। আমিই ওকে কাজে লাগিয়ে দিয়েছিলাম।”
জেলা আইনি সহায়তা পরিষেবা কেন্দ্রের সচিব অদিতি ঘোষ বলেন, “এটা ২০২৫ সালের প্রথম লোক আদালত। আজ তো আন্তর্জাতিক নারী দিবস। নারীদের ক্ষমতায়নের উদযাপন। সে কারণেই একজন টোটো চালক মহিলাকে মেম্বার জাজ হিসাবে এনেছি। আমাদের মনে হয়েছে উনি যেভাবে টোটো চালানোর মতো একটা ব্যতিক্রমী পেশাকে নিজের জীবনের অংশ করে নিয়েছেন। এই কাজকে আমাদের অসাধারণ মনে হয়েছে। সে হিসাবে আমরা এনেছি।”