
বহরমপুর: এসআইআর ইস্যু তৃণমূলের পাশাপাশি কমিশনের উপর চাপ আরও বাড়িয়েই চলেছে সিপিএম। কিছুদিন আগেই টানা ধরনা চলেছিল সিইও অফিসের সামনে। এবার বহরমপুরে এসআইআর বিরোধী মিছিল করে ফেলল বামেরা। নেতৃত্বে মহম্মদ সেলিম। অন্যদিকে হাত শক্ত করছে হাতও। বহরমপুরে এসআইআর বিরোধী মিছিল নিয়ে ময়দানে প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী। টেক্টটাইল মোড় প্রতিবাদ সভাও হয়। এদিন সকালে বহরমপুরের জেলা কংগ্রেস কার্যালয় থেকে মিছিল শুরু হওয়ার পর তা এসে পৌঁছায়য় টেক্সটাইল মোড়ে। সেখানে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে এসআইআর ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ শানান কংগ্রেস নেতারা। অন্যদিকে রবীন্দ্রসদনের সামনে একটি কর্মিসভা করে। তারপরই সেখান থেকে মিছিল বের হয়। ততক্ষণে রাস্তায় নেমে পড়েছে কংগ্রেসের মিছিল। নেতৃত্বে তখনও অধীর।
এক পর্যায়ে গির্জার মোড় এলাকায় কংগ্রেস-সিপিএমের দু’টি মিছিল একেবারে মুখোমুখি হয়ে যায়। এখানেই দেখা যায় এক অন্য ছবি। কংগ্রেসের নিচুতলার অনেক কর্মীই আবার সিপিএম কর্মীদের দেখে সোজা হাত মেলাতে চলে যান। ওয়াকিবহাল মহলের ধারনা, কেন্দ্রীয় স্তরে জোট না হলেও দুই দলের নিচুতলার কর্মীরা যে ভোটের ময়দানে একসঙ্গেই চলতে চান তা এই ধরনের পদক্ষেপ থেকে কিছুটা হলেও পরিষ্কার।
প্রসঙ্গত, এসআইআরে এখনও পর্যন্ত এই মুর্শিদাবাদেই আবার ১১ লক্ষ নাম বিচারাধীন রয়েছে। সে ক্ষেত্রে কংগ্রেস ও সিপিএমের একযোগে এক শহরে পৃথক মিছিল যে ভোটের আগে রীতিমতো বার্তাবহ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। দুই মিছিলেই জমায়েত ছিল একেবারে চোখে পড়ার মতো।
অন্যদিকে সিপিএমের সঙ্গে যে কোনও জোট হচ্ছে না তা সাংবাদিক বৈঠক করে আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। এদিকে খবর ছিল, নিচুতলার কর্মীরা বরাবরই সওয়াল করছিলেন জোটের পক্ষে। যদিও এরইমধ্যে একদিন আগেই আবার শতরূপ ঘোষের স্ট্যান্ড নিয়ে বিস্তর চাপানউতোর হয়। দুই পক্ষের উপরতলার নেতারা জোটের কথা না বললেও শতরূপ কিন্তু পাশে চাইছেন কংগ্রেসকে। রবিবার রাতে বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের নগর বেরুবারি হাটে কর্মিসভা করেন তিনি। সেখানেই কংগ্রেস কর্মীদের উদ্দেশ্যে শতরূপ বলেন, “আন্তরিকতা নিয়ে আমি অনুরোধ করছি, বামেদের পাশে দাঁড়ান। কংগ্রেসের কর্মীরা জানেন, আমরা কংগ্রেস প্রার্থীদের জন্য কীভাবে লড়াই করেছিলাম, নেতাদের মধ্যে বোঝাপড়া হল কি না, তাতে কিছু যায় আসে না।”