
মুর্শিদাবাদ: রান্নার সময় ফুটন্ত সবজির কড়াইয়ে পড়ে গিয়ে গুরুতরভাবে ঝলসে যাওয়া তিন বছরের এক শিশু। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন পরিবারের সদস্যরা। প্রায় ৬ ঘণ্টা বিনাচিকিৎসায় ফেলে রাখার অভিযোগ উঠল ডোমকল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের বিরুদ্ধে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুটি যন্ত্রণায় কাতরালেও ওয়ার্ডে কোনও চিকিৎসক আসেননি বলে দাবি পরিবারের। ঘটনাটি ঘটেছে ডোমকলের ঘোড়ামারা এলাকায়। শেষমেশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি গিয়ে রীতিমতো ক্ষোভ উগরে দেন।
জানা গিয়েছে, সোমবার দুপুর ২টো নাগাদ শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু অভিযোগ, দুপুর ২টো থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দীর্ঘ ৬ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও কোনও চিকিৎসক তাকে দেখতে আসেননি। কর্তব্যরত স্বাস্থ্যকর্মীদের একাধিকবার অনুরোধ জানিয়েও কোনও সুরাহা মেলেনি।
চিকিৎসার অভাবে শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে উঠলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্বজনেরা। খবর পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে ফোন করেন ডোমকলের বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রানা। হাসপাতালের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি সরাসরি সুপার ও দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। বিধায়কের হস্তক্ষেপের পরেই তড়িঘড়ি শিশুটির চিকিৎসা প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এমন গাফিলতি নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। রোগীর এক পরিজন বলেন, “আমরা অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছিলাম। শেষে না পেয়ে কেউ একজন বিধায়কের কাছে ছবি পাঠান। বিধায়ক সঙ্গে সঙ্গে ফোন করেন। ফোন করে বকাবকি করেন। প্রশ্ন হচ্ছে এতটুকু বাচ্চাকে কীভাবে ফেলে রাখা হচ্ছে? সাধারণ মানুষের চিকিৎসার কী অবস্থা?” যদিও এই নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।