
মুর্শিদাবাদ: ফের পুলিশের নজরে বাল্যবিবাহের ঘটনা। শুধু নাবালিকা অবস্থায় বিয়েই নয়, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগেই মা হয়ে গেল সে। ১২ বছর বয়সে গোপনে বিয়ে! তিন বছর পর অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে নাবালিকা। মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) জলঙ্গিতে পুলিশের অভিযানে আটক করা হল দুই পরিবারের একাধিক সদস্যকে।
পুলিশ সূত্রে খবর, মাত্র ১২ বছর বয়সে গোপনে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল এক নাবালিকার। বর্তমানে ওই নাবালিকা চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে জলঙ্গি থানার পুলিশের সহযোগিতায় অভিযানে নামে বাপু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মীরা। আটক করা হয় দুই পরিবারের একাধিক সদস্যকে।
ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি থানার অন্তর্গত দক্ষিণ ঘোষপাড়া এলাকায়। জানা গিয়েছে, প্রায় তিন বছর আগে ওই গ্রামেরই এক যুবকের সঙ্গে ওই নাবালিকার বিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের সময় নাবালিকার বয়স ছিল মাত্র ১২ বছর। এরপর প্রশাসনের নজর এড়িয়ে চলছিল তাদের সংসার।
সম্প্রতি গোপন সূত্রে বাপু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কাছে খবর যায় যে, ওই নাবালিকা বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা। খবর পেয়েই সংস্থার কর্মী অর্পিতা হালদার জলঙ্গি থানার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন তিনি। সেখান থেকে দুই পরিবারের একাধিক সদস্যকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনা ফের সামনে নিয়ে এল বাল্যবিবাহের মতো গুরুতর সামাজিক সমস্যাকে। প্রশাসন ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষ থেকে বারবার সচেতনতা প্রচার চালানো হলেও কীভাবে এমন ঘটনা ঘটছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মী অর্পিতা হালদার অভিভাবকদের সতর্ক করে জানিয়েছেন, মেয়েদের ১৮ বছর এবং ছেলেদের ২১ বছর বয়সের আগে বিয়ে দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই বাল্যবিবাহ থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি এ বিষয়ে সকলকে সচেতন হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। অন্যথায় আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বাল্যবিবাহ নিয়ে কড়া নির্দেশ দেওয়ার পর থেকে রাজ্য জুড়ে ধরপাকড় শুরু করেছে পুলিশ।