
বহরমপুর: সন্দেশখালির ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে বামেদের ‘আইন অমান্য’ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আর এই কর্মসূচির জেরে মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে। পুলিশ এবং বাম কর্মীদের মধ্যে খণ্ডযুদ্ধ বেধেছিল। আর গন্ডগোলের মধ্যে পড়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এক ব্যক্তি। পরে মৃত্যু হয় ওই বাম কর্মীর। সিপিএম-এর অভিযোগ, পুলিশের ছোড়া টিয়ার গ্যাসে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। মৃত বাম কর্মীর নাম আনারুল ইসলাম।
গতকাল আইন অমান্য কর্মসূচি ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। পুলিশের ব্যারিকেডের উপরেই উঠে যান বাম-কর্মীরা। ব্যারিকেট ভাঙার চেষ্টা করেন।তখনই বাধা দেয় পুলিশ। ধস্তাধস্তি চলে দু’পক্ষের মধ্যে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার গ্যাসের সেল ছোড়া হয়। সিপিএম-এর দাবি, গ্যাসের জেরে অসুস্থ হয়ে পড়েন আনারুল। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
যদিও, পুলিশের দাবি, টিয়ার গ্যাসের জন্য নয়, অসুস্থতার কারণে মৃত্যু হয়েছে ওই বাম কর্মীর। জেলা পুলিশ সুপার সূর্য প্রতাপ যাদব বলেন, “পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে জানিয়েছে তারা দেহ ময়নাতদন্ত করবে না। মেডিক্যাল রিপোর্ট বলছে ওই ব্যক্তির সেরিব্রাল অ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছে।”
তবে সিপিএম নেতা জামির মোল্লা বলেছেন, “হকের লড়াই করতে এসে বারেবারে আক্রান্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। পুলিশ অপরাধীদের ধরতে পারে না। এই খুনি সরকার শুধু আন্দোলনকারীদের উপর চড়াও হচ্ছে।” যদিও, রাজ্যের মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ” কাঁদানে গ্যাসের কারণে মৃত্যু হতে পারে না। আমিও কাঁদানে গ্যাস খেয়েছিলাম ২১ শে জুলাই ।পরে সুস্থ হয়ে গিয়েছি। হয়ত শারীরিক কারণে দুর্বল ছিলেন। তাই মৃত্যু হয়েছে। এটা একটা কোইনসিডেন্ট মাত্র।”