
মুর্শিদাবাদ: মুর্শিদাবাদ জেলায় শারদোৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে জেলা তথা বিধানসভার সামগ্রিক উন্নয়ন ও পর্যটন শিল্পের প্রসারে একগুচ্ছ বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ঐতিহাসিক এই জেলাকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে তুলে একটি ‘মডেল’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। পাশাপাশি, মুর্শিদাবাদের এনিমি প্রপার্টি নিয়েও বড় বার্তা দেন তিনি।
উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মুর্শিদাবাদের নিজস্ব এক সমৃদ্ধ অতীত ও ইতিহাস রয়েছে। সঠিক উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা থাকলে এখানে পর্যটন শিল্পের অভূতপূর্ব বিকাশ ঘটানো সম্ভব। উন্নয়নকাজে অর্থের কোনো অভাব হবে না। তিনি বলেন, “ভারত সরকার রাজ্যের হাতে যে ‘এনিমি প্রপার্টি’ বা ‘শত্রু সম্পত্তি’গুলির কাস্টডি বা নিয়ন্ত্রণ তুলে দেবে, সেগুলিকেই সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে অঞ্চলের বিকাশ ঘটানো হবে।” পুরো বিধানসভা এলাকাকে নতুন করে সাজিয়ে একটি মডেল ভিলেজ গড়ে তোলার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের পূর্ববর্তী সময়ে ভারত ছেড়ে পাকিস্তান বা অন্য কোনও শত্রু রাষ্ট্রে চলে যাওয়া এবং সেখানকার নাগরিকত্ব গ্রহণ করা ব্যক্তিদের জমি বা সম্পদকে ‘এনিমি প্রপার্টি’ বলা হয়। বর্তমানে এগুলির নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীয় সরকারের ‘দ্য কাস্টডিয়ান অফ এনিমি প্রপার্টি ফর ইন্ডিয়া’-র অধীনে ন্যস্ত রয়েছে।
সমগ্র পশ্চিমবঙ্গে থাকা ৪,৩৪৪ থেকে ৪,৩৭০টি শত্রু সম্পত্তির মধ্যে একক জেলা হিসেবে মুর্শিদাবাদেই সর্বাধিক—প্রায় ১,৭২৮টি সম্পত্তি অবস্থান করছে। এই সম্পত্তিগুলির তালিকায় রয়েছে সুবিশাল আম বাগান, বড় জলাশয়, কৃষিজমি এবং লালবাগের মতো ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থানের জমি। বহু বছর ধরে এই মূল্যবান সম্পত্তিগুলির বড় অংশ জবরদখল হয়ে রয়েছে এবং দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতায় আটকে রয়েছে।
বর্তমানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এই জমিগুলির জিও-ট্যাগিং এবং পরবর্তীতে ই-নিলামের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যবহারে আনার উদ্যোগ শুরু করেছে। সম্প্রতি বেলডাঙা ও লালবাগসহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে সমীক্ষা ও প্রশাসনিক নোটিশ পাঠানো ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে আলোচনা ও চর্চা চলছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই ঘোষণার পর ‘শত্রু সম্পত্তি’ কাজে লাগিয়ে জেলার পর্যটন ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নে নতুন গতি আসবে বলেই মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল।