
মুর্শিদাবাদ: রাজ্যে অতিরিক্ত আরও একটি নতুন জেলা তৈরির প্রশাসনিক প্রক্রিয়া জোরকদমে শুরু। পূর্বে পুলিশ জেলা গঠনের পথ ধরেই এ বার প্রশাসনিকভাবে মুর্শিদাবাদ জেলাকে ভেঙে দু’টি ভাগে বিভক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত বছর রাজ্য বাজেটে মুখ্যমন্ত্রী মুর্শিদাবাদ জেলা বিভাজনের কথা ঘোষণা করেছিলেন। সেই ঘোষণা অনুযায়ী প্রশাসনিক পদক্ষেপে গতি আনতে জেলার সব রাজনৈতিক দলগুলির মতামত জানতে একটি সর্বদল বৈঠক ডাকেন মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক আর অর্জুন।
বহরমপুরে জেলাশাসক ভবনের সভাকক্ষে আয়োজিত ওই বৈঠকে নতুন জেলার নামকরণ এবং ভৌগোলিক সীমানা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রস্তাবিত নতুন জেলাটি মূলত বহরমপুর, কান্দি, ডোমকল, লালবাগ ও জঙ্গিপুর— এই পাঁচ মহকুমার মধ্যে থাকা জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার এলাকাগুলি নিয়ে গঠিত হতে চলেছে। অর্থাৎ, সাগরদিঘি, রঘুনাথগঞ্জ, সুতি, সামশেরগঞ্জ ও ফরাক্কা— এই পাঁচটি থানা, ছয়টি বিধানসভা কেন্দ্র এবং সাতটি ব্লক নিয়ে আত্মপ্রকাশ করবে এই নতুন জেলা। বাকি চার মহকুমা নিয়ে মূল মুর্শিদাবাদ জেলাটি অপরিবর্তিত থাকবে।
তবে নতুন জেলার নাম কী হবে, তা নিয়ে বৈঠকে একাধিক বিকল্প প্রস্তাব উঠে এসেছে এবং নানা মত প্রকাশ পেয়েছে। বৃহস্পতিবারের এই বৈঠকে প্রশাসনিক আধিকারিকদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন সুতির তৃণমূল বিধায়ক ইমানি বিশ্বাস, বিজেপির প্রতিনিধি তথা জঙ্গিপুরের বিধায়ক চিত্ত মুখোপাধ্যায় এবং কংগ্রেসের জেলা সভাপতি মহম্মদ আব্দুল্লাহিল কাফিসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব। কিন্তু সমগ্র এই জেলা ভাগের পেছনে রাজনৈতিক চক্রান্ত দেখছেন বহরমপুর মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা কংগ্রেস সভাপতি মহম্মদ আব্দুল্লাহিল কাফি।
তাঁর বক্তব্য, “মুর্শিদাবাদ দ্বিখণ্ডিত হচ্ছে। জঙ্গিপুর সাব ডিভিশন যেরকম আছে, সেরকমই থাকবে। ৮টা ব্লক, ২ টো পৌরসভা, এটা নিয়ে আলাদা জেলা হবে। জেলা ভাগ নিয়ে আপত্তি নেই। জঙ্গিপুর সাব ডিভিশন নিয়ে যে জেলা, তার নামটা জঙ্গিপুর। অতীতে দেখা গিয়েছে, জেলা ভাগ হলেও নাম অক্ষুণ্ণ রাখা হয়েছে। সর্বদলীয় বৈঠকে বিজেপির বিধায়ক বাদে সব রাজনৈতিক দল একই কথা বলেছে, মুর্শিদাবাদ ঐতিহাসিক জেলা, এটা যেন মুছে ফেলা না হয়। মুর্শিদাবাদ উত্তর ও মুর্শিদাবাদ দক্ষিণ বলা হয়েছে। জেলাশাসক নোট করেছেন।”
কংগ্রেসের জেলা পরিষদের সদস্য তহিদুর রহমান বলেন, “জেলা ভাগের প্রস্তাব আসার সময় থেকেই আমাদের দাবি ছিল, লালগোলা যাতে বহরমপুরের মধ্যে থাকে। বিভিন্ন মহল, আধিকারিকদের জানিয়েছে। বৈঠকেও জানিয়েছি। জানতে পেরেছি লালগোলা বহরমপুরেই থাকছে।”
বিজেপি বিধায়ক চিত্ত মুখোপাধ্যায় বলেন, “একটা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, জঙ্গিপুর সাব ডিভিশন নিয়েই একটা আলাদা জেলা হবে। জঙ্গিপুরে কী উন্নয়ন হবে, সেগুলো আলোচনা হয়েছে। নামকরণ নিয়ে অনেকেই মত দিয়েছেন। প্রায় সবাই উত্তর মুর্শিদাবাদ, মুর্শিদাবাদ করা হোক। আমি বাদে সবাই বলেছেন। জেলাশাসক অবশ্য বলেছেন, এ ব্যাপারে তাঁর কিছু করার নেই।”