
ডোমকল: রাজ্যের ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই তাসের ঘরে মতো ভাঙছে তৃণমূল। দলে দলে বিদ্রোহী সাংসদ, বিধায়করা অন্য শিবিরে যোগ দিচ্ছেন। তৃণমূলের সেই ভাঙনের রেশ এবার পড়ল গ্রাম পঞ্চায়েতেও। মুর্শিদাবাদের ডোমকলে তৃণমূলের হাত থেকে একটি গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করল কংগ্রেস। আর গ্রাম পঞ্চায়েত দখলের পর মিষ্টি বিতরণ করেন কংগ্রেস কর্মীরা।
ডোমকল ব্লকের রায়পুর গ্রাম পঞ্চায়েত। তৃণমূলের দখলে থাকা এই গ্রাম পঞ্চায়েতই দখল করল কংগ্রেস। প্রধান হলেন কংগ্রেসের ফেরদৌসী খাতুন। এদিন অনাস্থা প্রস্তাবে তৃণমূলের প্রধান সাখিনা বিবিকে ১৬-১৪ ভোটে পরাজিত করেন কংগ্রেসের ফেরদৌসী।
রায়পুর গ্রাম পঞ্চায়েতে অনস্থা প্রস্তাব আনার আগেই মোট ১৪ সদস্য কংগ্রেসের পতাকা হাতে তুলে নিয়েছিলেন। অনাস্থা প্রস্তাব ঠেকানো যায়নি। দীর্ঘ টালবাহানার পর মঙ্গলবার প্রধান গঠনের দিন ঠিক হয়। সেইমতো এদিন সকাল থেকেই পুলিশের কড়া নিরাপত্তা ছিল। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীও। সকালে পঞ্চায়েতে প্রবেশ করেন ৩০ সদস্যই। টানটান পরিস্থিতি ছিল পঞ্চায়েতের বাইরে। অবশেষে দুপুরে বেরিয়ে যান বিরোধী সদস্যরা। ভোটাভুটিতে ১৬-১৪’তে প্রধান হন কংগ্রেসের ফেরদৌসী খাতুন। প্রধান হওয়ার পর ফেরদৌসী খাতুন বলেন, “এই তো সবে প্রধান হলাম। সবার সঙ্গে আলোচনা করে কাজ করব। বিরোধীদেরও সঙ্গে নেব।”
তৃণমূলের হাত থেকে গ্রাম পঞ্চায়েত দখল হওয়ার পর উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন কংগ্রেস কর্মীরা। নবনির্বাচিত প্রধানকে ফুলের মালা পরিয়ে মিছিল করেন তাঁরা। চলে স্লোগান। বিতরণ করা হয় মিষ্টি। এই খবর পেয়েই উপস্থিত হন ডোমকল ব্লক কংগ্রেসের সভাপতি মসিউর রহমান টাইটন। ভোট শেষে পঞ্চায়েতের কংগ্রেস এক সদস্য বলেন, প্রধান গঠনে কংগ্রেসের পক্ষে ছিল ১৬ সদস্য। বিপক্ষে ১৪। এখন বর্তমান প্রধানকে নিয়েই এলাকার উন্নয়ন হবে বলে তিনি জানান।