
বহরমপুর: ভোটের পর থেকেই পলাতক ছিলেন। শেষপর্যন্ত অবশ্য পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন। আর বহরমপুরের ধৃত তৃণমূল নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বেশ কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল কার্তুজ উদ্ধার করল পুলিশ। এই নিয়ে তৃণমূলকে নিশানা করল বিজেপি। তৃণমূল নেতারা বাড়িতে কেন এত আগ্নেয়াস্ত্র রেখেছেন, কী উদ্দেশ্য তাঁদের, সেই প্রশ্ন তুললেন শাসকদলের নেতারা।
ধৃত ওই তৃণমূল নেতার নাম পাপাই ঘোষ। তিনি বহরমপুর শহর যুব তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি। পুলিশ জানিয়েছে, ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবির পরই গা ঢাকা দিয়েছিলেন পাপাই। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আপাতত পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন পাপাই। তৃণমূল ওই নেতাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেই এদিন প্রচুর পরিমাণে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করল পুলিশ। ধৃত তৃণমূল নেতার বাড়ি থেকে সাতটি আগ্নেয়াস্ত্র, পাঁচটি ম্যাগাজিন ও ১৮৬টি কার্তুজ উদ্ধার করে বহরমপুর থানার পুলিশ। অন্যদিকে শক্তিপুর থানার পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র, ছয়টি ম্যাগাজিন ও চল্লিশ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। এ ছাড়াও আরও দুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পাপাইয়ের বিরুদ্ধে সরব হয়ে বহরমপুরের বিজেপ বিধায়ক সুব্রত মৈত্র বলেন, “এই পাপাই ঘোষ দীর্ঘদিন ধরে বহরমপুর শহরে তাণ্ডব চালিয়েছে। সাতটা নয়। পাপাই ও তাঁর চামচাদের কাছে আরও অনেক অস্ত্র আছে। পুলিশ প্রশাসনের এই ভালো পদক্ষেপকে আমরা সমর্থন করি।”
তৃণমূলকে কটাক্ষ করে বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ বলেন, “আমি বুঝতে পারছি না এটা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না। এত গুলি। এরা তো রণক্ষেত্র তৈরি করবে। এদের প্রত্যেক ঘর তল্লাশি হোক। হারার পরও ঘরে বন্দুক রেখেছে। তার মানে এদের কোনও না কোনও পরিকল্পনা রয়েছে।” তবে তৃণমূলের যুক্তি, ওই অস্ত্রগুলি ধৃত নেতারই কি না, তা খতিয়ে দেখা হোক। তারপর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক।